Bangladehs ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গুড়ায় এইচএসসি ফরম ফিলাপ নিয়ে ‘আত্মহত্যার হুমকি’র তদন্তে বেরিয়ে এলো আসল ঘটনা

প্রতিনিধিঃমো:আরিফুল ইসলাম ভাঙ্গুড়া (পাবনা)
  • আপডেট টাইম : ১১:০০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫৭ ০০০.০০.বার

পাবনার ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রী কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও কয়েকটি বেনামী অনলাইন পোর্টালে প্রচারিত ‘আত্মহত্যার হুমকি’ সংক্রান্ত ভিডিওটি সাজানো বলে প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জানা যায়, উক্ত কলেজে ফরম ফিলাপের জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন মোট ১১৩ জন ২২ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় তাদের ফরম ফিলাপের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা কলেজের ম্যানেজিং কমিটির কাছে অভিযোগ করলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে পুনরায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু পুনঃপরীক্ষায়ও ২২ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন পাস করে, বাকি ২১ জন পুনরায় ফেল করে। ফেল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই ইংরেজি বিষয়ে (০) শুন্য থেকে সর্বোচ্চ ১০ নম্বর পর্যন্ত পেয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে শিক্ষার্থীরা ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমানের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তারা ফরম ফিলাপের সুযোগ না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলাকালে এ হুমকির পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হয়।
শিক্ষার্থীরা স্বীকার করে যে, কলেজে অবস্থানকালে সাংবাদিক পরিচয়ে দুই ব্যক্তি তাদের এ ধরনের বক্তব্য দিতে প্ররোচিত করেন। তারা জানায়, ওই ব্যক্তিরা তাদের শিখিয়ে দেন যে, উপজেলা প্রশাসনের কাছে আত্মহত্যার হুমকি দিলে ফরম ফিলাপের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। মূলত সেই প্ররোচনায় তারা এমন বক্তব্য দেয়, যা তাদের প্রকৃত মনোভাব নয়।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা পরে জানায়, তারা ভবিষ্যতে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আগামী বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মো. মোস্তফা কামাল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন পত্রিকায় প্রচারিত ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো এবং ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও জনাব মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্বীকার করেছে যে দুই ব্যক্তি তাদের এ ধরনের কথা বলতে প্ররোচিত করেছিলেন।
তিনি আরও জানান, সকল শিক্ষার্থীকে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

ভাঙ্গুড়ায় এইচএসসি ফরম ফিলাপ নিয়ে ‘আত্মহত্যার হুমকি’র তদন্তে বেরিয়ে এলো আসল ঘটনা

আপডেট টাইম : ১১:০০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রী কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও কয়েকটি বেনামী অনলাইন পোর্টালে প্রচারিত ‘আত্মহত্যার হুমকি’ সংক্রান্ত ভিডিওটি সাজানো বলে প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জানা যায়, উক্ত কলেজে ফরম ফিলাপের জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন মোট ১১৩ জন ২২ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় তাদের ফরম ফিলাপের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা কলেজের ম্যানেজিং কমিটির কাছে অভিযোগ করলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে পুনরায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু পুনঃপরীক্ষায়ও ২২ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন পাস করে, বাকি ২১ জন পুনরায় ফেল করে। ফেল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই ইংরেজি বিষয়ে (০) শুন্য থেকে সর্বোচ্চ ১০ নম্বর পর্যন্ত পেয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে শিক্ষার্থীরা ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমানের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তারা ফরম ফিলাপের সুযোগ না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলাকালে এ হুমকির পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হয়।
শিক্ষার্থীরা স্বীকার করে যে, কলেজে অবস্থানকালে সাংবাদিক পরিচয়ে দুই ব্যক্তি তাদের এ ধরনের বক্তব্য দিতে প্ররোচিত করেন। তারা জানায়, ওই ব্যক্তিরা তাদের শিখিয়ে দেন যে, উপজেলা প্রশাসনের কাছে আত্মহত্যার হুমকি দিলে ফরম ফিলাপের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। মূলত সেই প্ররোচনায় তারা এমন বক্তব্য দেয়, যা তাদের প্রকৃত মনোভাব নয়।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা পরে জানায়, তারা ভবিষ্যতে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আগামী বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মো. মোস্তফা কামাল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন পত্রিকায় প্রচারিত ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো এবং ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও জনাব মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্বীকার করেছে যে দুই ব্যক্তি তাদের এ ধরনের কথা বলতে প্ররোচিত করেছিলেন।
তিনি আরও জানান, সকল শিক্ষার্থীকে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।