বাঞ্ছারামপুরে তেলের জন্য হাহাকার:
- আপডেট টাইম : ০৯:২৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮ ০০০.০০.বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় তেলের জন্য হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করেই ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, পরিবহন চালক, ব্যাবসায়ী ও কৃষকরা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, কিছু অসাধু ডিলার সিন্ডিকেট করে তেল মজুত করছে ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ফিলিং স্টেশন না থাকায় এই উপজেলার মানুষ স্থানীয় তেলের ডিলারদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংকটে ডিলারদের কাছেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও সরকারি রেটের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালক ইসমাইল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত তিন দিন ধরে তেলের জন্য এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছি, কিন্তু কোথাও তেল বিক্রি করছে না। সবাই একই কথা বলে—‘তেল নাই’। আমাদের মতো যারা প্রতিদিন মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি, আমরা কার্যত অচল হয়ে পড়েছি। আমার বন্ধুবান্ধবের কেউ এখন বাইক চালাতে পারছে না।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ফারুক বলেন, “তেলের অভাবে বাইক বাড়িতে রেখে দিতে বাধ্য হয়েছি। কোথাও তেলের কোনো সন্ধান নেই। প্রশাসন যদি নিজ উদ্যোগে তেল বিক্রির ব্যবস্থা করতো, তাহলে কোনো ডিলার সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো না।”
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক তেল ব্যবসায়ী জানান,
“বাজারে তেল না থাকায় আমরা নতুন করে আনতে পারছি না। কোথাও পাওয়া গেলেও সরকারি রেটের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারী করছে। এই অবস্থায় ভাড়া দিয়ে এনে বিক্রি করলে লাভ হবে না, এজন্য অনেকেই নতুন করে তেল আনছে না। আগে যা ছিল, তা দিয়েই এতদিন চলেছি।”
কলেজ শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, “পরীক্ষা ও ক্লাসে যেতে খুব সমস্যায় পড়ছি। বাইক থাকলেও তেল না থাকায় ব্যবহার করতে পারছি না। এটা সাধারণ মানুষের জন্য এক ধরনের দুর্ভোগের চরম উদাহরণ।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, কিছু অসাধু ডিলার সিন্ডিকেট করে তেল মজুত করছে এবং সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংকট মোকাবিলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বা পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন,
“অতিরিক্ত দামে যারা তেল বিক্রি করছে, আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। তেলের বিষয়ে আপনারা যারা তেলের ডিপিও (ডিলার), তাদের সঙ্গে কথা বলেন।”




















