মোংলায় জমি দখল ও ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ
- আপডেট টাইম : ১০:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৫ ০০০.০০.বার

ওমর ফারুক : মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের হলদিবুনিয়া এলাকায় জোরপূর্বক জমি দখল ও বসতঘর ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ জেসমিন বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হলদিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা জেসমিন বেগম তার বৈধভাবে ক্রয়কৃত ১৩ শতক জমি দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে প্রতিপক্ষের দখলে রয়েছে বলে দাবি করেন। অভিযুক্ত হিসেবে একই এলাকার জাহানুর বেগম, হাসিনা বেগমসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বারবার জমির কাগজপত্র উপস্থাপন করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সালিশের উদ্যোগ নেয়া হলেও অভিযুক্তরা কোনো প্রকার সমঝোতায় রাজি হননি। বরং তারা প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক জমিটি নিজেদের দখলে রেখে দেন।
এছাড়া, জমির কাছে গেলেই তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ রাতে অভিযুক্তরা জেসমিন বেগমের দলিলকৃত জমিতে নির্মিত ঘর ভাঙচুর করে ফেলে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, জমির ন্যায্য দাবি নিয়ে গেলে তার ওপর হামলা, মারধর কিংবা গুরুতর সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কাজী ফজলু, পার্থ রায় ও মিঠু মন্ডলসহ একাধিক ব্যক্তি ঘটনার সাক্ষী রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট জমির তফশীল অনুযায়ী, মোংলা উপজেলার জেএল-১৪ নম্বর হলদিবুনিয়া মৌজার বিআরএস ২২২৫ খতিয়ানের ৬৯৬ নম্বর দাগে উক্ত ১৩ শতক জমি অবস্থিত।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জেসমিন বেগম প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আমি একজন অসহায় নারী। আমার কষ্টার্জিত সম্পত্তি জোর করে দখল করে রেখেছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মোংলা থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা এ এস আই সুব্রত জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিবাদী জাহানুর বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ফজলু নামক এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে ২০০৮ সালে জমি বাবদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে রেজিস্ট্রি না দিয়ে তার সাথে প্রতারণা করেছেন। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।



















