ক্ষতিকর পলিথিনের সর্বনাশা ব্যবহার ও মারাত্মক পরিবেশ দূষণ!
- আপডেট টাইম : ১১:২৮:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
- / ৬১ বার
উৎপাদন, বিপনন, ব্যবহার নিষিদ্ধ। অথচ সবার হাতে হাতে পলিথিন। নিত্যদিনের বাজার সদাই মানেই পলিথিনের ব্যবহার। নিষিদ্ধ পলিথিনে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে। ঢাকা এখন দুনিয়ার একনম্বর বায়ূদুষণের শহর। আইন-শৃংখলা বাহিনীর চোখের সামনে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে পলিথিনের স্তূপ। আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের হাতেও পলিথিনের ব্যাগ শোভা পায়। পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক পলিথিন উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উৎপাদন, বিপনন, ব্যবহার নিষিদ্ধ। অথচ সবার হাতে হাতে পলিথিন। নিত্যদিনের বাজার সদাই মানেই পলিথিনের ব্যবহার। নিষিদ্ধ পলিথিনে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে। ঢাকা এখন দুনিয়ার একনম্বর বায়ূদুষণের শহর। আইন-শৃংখলা বাহিনীর চোখের সামনে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে পলিথিনের স্তূপ। আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের হাতেও পলিথিনের ব্যাগ শোভা পায়। পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক পলিথিন উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এরপরও অবাধে চলছে পলিথিনের উৎপাদন ও বিপনন প্রক্রিয়া। দৈনন্দিন জীবনের সবকিছুতে চলছে পলিথিনের ব্যবহার। নিত্যদিনের বাজার সদাই থেকে শুরু করে এক টাকা দামের চকলেট হোক বা লাখ টাকার ফ্রিজ সব কিছুর সাথে পলিথিন দেয়া হচ্ছে। এসব পলিথিন ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেয়া হয়। অপচনশীল পলিথিনে ভরাট হচ্ছে পয়ঃনিষ্কাশনের নালা-নর্দমা। তাতে তৈরি হচ্ছে পানিবদ্ধতা। ধূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এ ছাড়া চাপাপড়া পলিথিন মাটির গুণাগুণ নষ্ট করছে। পলিথিন বা প্লাস্টিক বর্জ্যে নদী থেকে সাগরের পানি পর্যন্ত দূষিত হচ্ছে।
ঢাকা এবং ঢাকার আশপাশে নিষিদ্ধ এ পলিথিনের উৎপাদন চলছে অনেকটা নির্বিঘ্নে। পুরান ঢাকার ইসলামবাগ, যাত্রাবাড়ি, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শত শত পলিথিন কারখানা আছে। স্বাভাবিকভাবে পলিথিন পঁচনশীল নয়। ব্যবহৃত পলিথিনের পরিত্যক্ত অংশ দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত ও অবিকৃত থেকে মাটি, পানি ইত্যাদি দূষিত করে। পলিথিন মাটির উর্বরতা হ্রাস ও মাটির গুনাগুণ পরিবর্তন করে। পলিথিন পোড়ালে এর উপাদান পলিভিনাইল ক্লোরাইড পুড়ে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়ে বাতাস দূষিত করে। পলিথিনের ব্যাগ ও অন্যান্য পণ্য শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ‘নারডল’ নামক একপ্রকার প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রের পানিতে মিশে পানি দূষিত হচ্ছে। এতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। পলিথিন ও বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্য ব্যাপক ভাবে ব্যবহারে সারাদেশে খাল-বিল, নদী-নালা থেকে শুরু করে সমুদ্র পর্যন্ত প্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
বর্তমানে নামি দামি কসমেটিক কোম্পানির সাবান, ফেসওয়াস, টুথপেস্ট, বডিওয়াস, ডিটারজেন্ট, বিস্কিট, চানাচুর, চিপস, মশলা ইত্যাদিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্যাদির মোড়কে মাইক্রোবিড নামক ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি দেখা যায়। যা ব্যবহারের পর নদী-নালা, খাল-বিল ও অন্যান্য জলাশয়ে যাচ্ছে এবং মাছের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে। এর ফলে চর্মরোগসহ মারাত্মক ক্যান্সার পর্যন্ত হচ্ছে। পলিথিন তৈরির চেয়ে আরো ভয়াবহ ক্ষতিকর হচ্ছে পুরানো পলিথিন পুড়িয়ে আবার নতুন পলিথিন বা প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরী করা। ব্যবহারের পর ফেলে দেয়া পুরনো পলিথিন বা পানির বোতল কুড়িয়ে এনে তা গলিয়ে আবারো বানানো হচ্ছে নতুন ব্যাগ। এতে পরিবেশ আরো মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
গাবতলী বেড়িবাঁধের স্লুইস গেট এলাকায় অনেকে পুরনো পলিথিন ব্যাগ বা প্লাস্টিক বোতল সংগ্রহ এবং বাছাইয়ের কাজ করে। তারা ব্যবহারের পর ফেলে দেয়া নোংরা পলিথিন ব্যাগ বা বোতল সংগ্রহ করে। এসব পলিথিন ও কুড়ানো বোতল পুরান ঢাকার ইসলামবাগসহ বিভিন্ন এলাকার কারখানায় পাঠানো হয়। সেগুলো গলিয়ে তা দিয়ে আবার তৈরি করা হচ্ছে নতুন পলিথিন ব্যাগ। এতে বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
পুরানো ঢাকার অসংখ্য কারখানায় পুরানো পলিথিন বা প্লাস্টিক সামগ্রি পোড়ানোর ফলে বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকা বার বার দুনিয়ার শীর্ষে জায়গা করে নিচ্ছে। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর প্রকাশিত তথ্যে বলা হয় যে, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরির প্রায় এক হাজার ২০০ কারখানা রয়েছে। যার বেশির ভাগই পুরান ঢাকা কেন্দ্রিক। শুধু পুরান ঢাকার অলিগলিতে আছে ৫শতাধিক কারখানা। সংস্থাটির দেয়া তথ্যমতে কেরানীগঞ্জ, জিঞ্জিরা, কামরাঙ্গীরচর, মিরপুর, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, টঙ্গীতে ছোট-বড় বেশকিছু কারখানা আছে। যাত্রাবাড়ী থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পর্যন্ত বুড়িগঙ্গার পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠেছে কয়েকশ কারখানা। ঢাকার পলিথিন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আছে একাধিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেট পলিথিনগুলো ‘জরুরি রপ্তানি কাজে নিয়োজিত’ লেখা ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয়। পণ্যবহনে পরিবেশ বান্ধব পাটজাত ব্যাগ ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করার কথা থাকলেও বাস্তবে মানা হচ্ছে না। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় না।
আইন বলছে, ‘পলিথিন সামগ্রী উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে প্রথম অপরাধের দায়ে অনধিক দুই বছরের কারাদন্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা জরিমানা। আবার উভয় দন্ড হতে পারে। আবার পরবর্তী প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধী অন্যতম দুই বছর, অনধিক ১০ বছরের কারাদন্ড বা অন্যতম দুই লাখ টাকা, অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। বিক্রি, বিক্রির জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে শাস্তির বিধান। এক্ষেত্রে অনধিক এক বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। পরবর্তী প্রতিটি অপরাধের দায়ে অপরাধীরা দুই বছর, অনধিক ১০ বছরের কারাদন্ড বা দুই লাখ টাকা, অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। আইনে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ থাকলেও এর কার্যকারিতা নেই।
পরিবেশ অধিদপ্তরের আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতার অভাবই এর মূল কারণ। পলিথিন বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর পুরোপুরি ব্যর্থ। পরিবেশ অধিদপ্তরের একশ্রেণীর অসাধু কর্মচারীদের কারণে নিষিদ্ধ পলিথিন এখনো অবাধে উৎপন্ন ও বাজারজাত হচ্ছে। ভূমিকা: মানুষসহ সবপ্রাণীর জন্য পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশই হলো প্রাণের ধারক ও বাহক। পরিবেশের ওপর নির্ভর করে মানুষ, উদ্ভিদ বা প্রাণীর উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে। প্রতিটি জীবই বাঁচার জন্য নিজ নিজ পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে। কোন কারণে পরিবেশ দূষিত হয়ে ওঠলে জীবের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। অথচ আমাদের পরিবেশ বিভিন্ন ভাবে দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের যেসব উপাদান রয়েছে তার মধ্যে পলিথিন অন্যতম।
পলিথিন কি:
পলিথিন প্রকৃতি থেকে সৃষ্ট কোন পদার্থ নয়। এটি একটি রাসায়নিক পদার্থ। পলিথিন বিষাক্ত প্রোপাইলিনের সাথে পেট্রোলিয়াম হাইড্রো কার্বনের ৩/৪টি মলিকুলের সংমিশ্রণে তৈরি হয়। বিজ্ঞানের পরিভাষায় এর নাম পলিথাইলিন। অন্যান্য পদার্থের মত পলিথিন ভেঙ্গে অন্য কোন পদার্থে রূপান্তরিত হয় না। পলিথিনকে কোন অণুজীব মাইক্রোন অর্গানিজম খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে না। যদি পলিথিন ভেঙ্গে গিয়ে মিথেন কিংবা কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত হত তাহলে কোন সমস্যা হত না। পলিথিন রূপান্তরিত হয় না বলে এটা পঁচে না। চিকিৎসকদের প্রতিবেদনে বলা হয়, পলিথিনের ব্যবহার মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করতে পারে। পলিথিন ব্যাগে রাখা খাবারের ওপর এর প্রভাব পড়লে সে খাবার গ্রহণে চর্মরোগ, ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে। পলিথিন রঙ্গিন করতে ব্যবহৃত ক্যাডমিয়ামের বিষাক্ত প্রভাবও স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে বলা হয় পলিথিন বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। পলিথিন পোড়ালে যে গ্যাস উৎপন্ন হয়-তা বায়ুকে বিষাক্ত করে তোলে।
অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয় পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করে পাটজাত ব্যাগ ব্যবহার করলে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক হবে। পলিথিনের অপব্যবহার: আজ থেকে প্রায় ত্রিশ বছর আগে যাত্রা শুরু হয়ে ব্যাপক আকার ধারণ করে গোটা দেশ পলিথিনের ভাগাড় পরিণত হয়েছে। এমন কোন স্থান নেই যেখানে পলিথিনের ব্যবহার নেই। আমাদের দেশে পলিথিন সাধারণত ফ্যাশন হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, খালি হাতে বাজারে গিয়ে ১০/১২টি রঙিন ব্যাগ নিয়ে ঘরে ফেরা হয়। দামে সস্তা ও নানা রঙের পলিথিন অতি সহজেই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। এটা সহজলভ্য বিধায় বিক্রেতারাও সহজেই জিনিসপত্রের সাথে পলিথিন ফ্রি দেয়। সাধারণত শপিং ব্যাগ হিসেবেই এটা বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। পলিথিন নিয়ে বাড়ী ফেরার পর আমরা প্রয়োজনীয় জিনিস রেখে দেই এবং পলিব্যাগগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দেই। এভাবেই প্রতিদিন সারাদেশে লাখ লাখ পলিথিনের অপব্যবহার হচ্ছে। পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব: পলিথিন এমন একটি রাসায়নিক উপাদানে তৈরি যা পরিবেশের জন্য মোটেই উপযোগী নয়। তাই পরিবেশবাদীরা পলিথিন ব্যবহারের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে কিছু উল্লেযোগ্য দিক তুলে ধরা হলো-
১। পলিথিন রাসায়নিক উপাদানে তৈরি বলে তা স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
২। পলিথিনে যখন কোন খাদ্যদ্রব্য বহন করা হয় তখন এর মধ্য থেকে বিসফেনোল নামক বিষ নির্গত হয়। যা খাদ্যদ্রব্যের সাথে মিশে যায়। এ খাদ্যদ্রব্য খেলে বিষাক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি।
৩। এটি মাটির সাথে মিশে না। ফলে মাটির উর্বর শক্তি নষ্ট হয়।
৪। ডাস্টবিনে ফেলা পলিথিন বৃষ্টির পানির সাথে ড্রেনে ঢুকে পড়ে। ফলে ড্রেনের পানি উপচে ওপরে ওঠে আসে এবং পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
৫। পলিথিন কখনো পঁচে না, এটা অক্ষয়।
৬। পলিব্যাগ পোড়ালে তাতে বায়ুদূষণে সহায়তা করে অর্থাৎ বায়োক্সিন, হাইড্রোজেন সায়োনাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। এর ফলে বায়ুদূষণ ঘটে। এতে যক্ষ্মা বা ক্যান্সার হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা দেখা দেয়।
৭। পলিথিন নদীর তলদেশে জমা হয়ে তলদেশ ভরাট করে ফেলে। ফলে বন্যা হয়। ‘৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যা এর জন্য অনেকটা দায়ী।৮। পলিব্যাগ জমা হবার কারণে অনেক সময় পানি সহজে প্রবেশ করতে পারে না। যার ফলে শুষ্কতা ও পানিশূন্যতা দেখা দেয়।
পলিথিনের বিকল্প:
পরিবেশবাদীরা পলিথিনের ক্ষতিকর দিক আলোচনার পাশাপাশি এর বিকল্প দিক নিয়েও আলোচনা করেছেন। সমগ্র দুনিয়ার পরিবেশবাদীরা স্বীকার করেছেন যে পাট, কাগজ এবং তুলার ব্যাগ পলিথিনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পারে। পাট সত্যিই পরিবেশের বন্ধু। এটি ক্ষুদ্র কোষযুক্ত এবং পচনশীল। এটি পোড়ালে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয় না। পাটের মতো তুলা ও কাগজও পরিবেশের বন্ধু। এগুলো দিয়ে তৈরী ব্যাগ কম দামে পাওয়া যায়। ক্রেতাদের রুচি অনুযায়ী নানা নকশার ব্যাগ তৈরি করা যায়। জানা যায় বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) ২ টাকা মূল্যের পাটের ব্যাগ সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছে। সে সাথে মাল্টি পাটের ব্যাগ বাজারজাত করা হবে। যা সহজে পকেটে বহন করা যাবে। পাট জাতীয় পণ্য সঠিক ভাবে ব্যবহৃত হলে একদিকে পরিবেশ দূষণ বন্ধ হবে অন্যদিকে পাটের বিকল্প ব্যবহার বাড়বে।
সরকারি ব্যবস্থা:
পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধের জন্য বহুদিন ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে দাবি জানানো হয়েছে। অতীতে দুবার এ ক্ষতিকর ব্যাগ নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। প্রথম উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে। দ্বিতীয়বার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, দু’টি সরকারের উদ্যোগই ব্যর্থ হয়। ২০০১ সালের বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার পলিথিন নিষিদ্ধকরণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন সংশোধন করা হয়। ঘোষণা করা হয় যে, ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি প্রাথমিক ভাবে ঢাকা শহর এবং ২০০২ সালের মার্চ থেকে সারা দেশে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হবে।
পরিবেশবাদীরা পলিথিনের ক্ষতিকর দিক আলোচনার পাশাপাশি এর বিকল্প দিক নিয়েও আলোচনা করেছেন। সমগ্র দুনিয়ার পরিবেশবাদীরা স্বীকার করেছেন যে পাট, কাগজ এবং তুলার ব্যাগ পলিথিনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পারে। পাট সত্যিই পরিবেশের বন্ধু। এটি ক্ষুদ্র কোষযুক্ত এবং পচনশীল। এটি পোড়ালে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয় না। পাটের মতো তুলা ও কাগজও পরিবেশের বন্ধু। এগুলো দিয়ে তৈরী ব্যাগ কম দামে পাওয়া যায়। ক্রেতাদের রুচি অনুযায়ী নানা নকশার ব্যাগ তৈরি করা যায়। জানা যায় বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) ২ টাকা মূল্যের পাটের ব্যাগ সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছে। সে সাথে মাল্টি পাটের ব্যাগ বাজারজাত করা হবে। যা সহজে পকেটে বহন করা যাবে। পাট জাতীয় পণ্য সঠিক ভাবে ব্যবহৃত হলে একদিকে পরিবেশ দূষণ বন্ধ হবে অন্যদিকে পাটের বিকল্প ব্যবহার বাড়বে।
বেকারত্ব সৃষ্টি ও এর সমাধান:
পলিথিন ক্ষতিকর পণ্য এতে কোনো সন্দেহ নেই। হঠাৎ পলিথিন বন্ধ হবার কারণে প্রায় চল্লিশ হাজার লোক কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। তাদের সমস্যার বিষয় চিন্তা করে তৎকালীন সরকার ১৬০টি পলিথিন ফ্যাক্টরীর মালিক ও শ্রমিক-কর্মচারীদের সম্পূর্ণ পুনর্বাসন করে।
উপসংহার:
২০০২ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার পরিবেশ আইন সংশোধন করে পলিথিন কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করেছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার সারাদেশ পলিথিনে সয়লাব হয়ে যায়। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। হাট, বাজার ও মার্কেট সয়লাব হয়ে যাওয়া ক্ষতিকর পলিথিন বন্ধে নতুন সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন এন.জি.ও এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।



















