Dhaka ১১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গংগাচড়ার কৃষকের মাথায় হাত: অসময়ের বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান, বিঘাপ্রতি মজুরি ৪ হাজার

মোঃ হাসান আলী নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : ০৫:৩০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • / ১৮৩ ০০০ বার

রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলার কৃষকদের এখন মাথায় হাত। টানা বৃষ্টিতে ‘পাকা ধান’ ক্ষেতেই তলিয়ে যাচ্ছে। ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। শ্রমিক পাওয়া গেলেও বিঘাপ্রতি গুনতে হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে গংগাচড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঝড়ো বাতাসে ‘পাকা ধান’ ক্ষেতে পড়ে থাকায় গজাচ্ছে ধানের চারা।

কৃষক বায়েজিদ বলেন, এক বিঘা ধান কাটতে আগে ১৫০০-২০০০ টাকা লাগতো, এখন শ্রমিকই পাওয়া যায় না। পাইলেও ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা চায়। ধানের যে দাম, তাতে কামলা খরচ দিয়ে আমাদের কিছুই থাকে না। বৃষ্টির পানিতে অর্ধেক ধান নষ্ট হইয়া গেল।

মন্থনা এলাকার কৃষাণী রহিমা খাতুন জানান, স্বামী-স্ত্রী মিলে ‘পানি ভাঙি ধান কাটতেছি’। কামলা পাই নাই। ‘ধান কাইট্যা বাড়িত নেওয়াও কষ্ট, ভিজা ধান মাড়াই-শুকানো আরও ঝামেলা’।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গংগাচড়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ ভাগ ধান এখনও মাঠে। অসময়ের বৃষ্টিতে প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গংগাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বৃষ্টির কারণে কৃষক’রা চরম বিপাকে পড়েছেন। আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নিরাপদ জায়গায় নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় কম্বাইন হারভেস্টার যন্ত্র ব্যবহারই এখন একমাত্র ভরসা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি প্রণোদনা ও কম সুদে কৃষি ঋণের দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় নিউজ

গংগাচড়ার কৃষকের মাথায় হাত: অসময়ের বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান, বিঘাপ্রতি মজুরি ৪ হাজার

আপডেট টাইম : ০৫:৩০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলার কৃষকদের এখন মাথায় হাত। টানা বৃষ্টিতে ‘পাকা ধান’ ক্ষেতেই তলিয়ে যাচ্ছে। ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। শ্রমিক পাওয়া গেলেও বিঘাপ্রতি গুনতে হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে গংগাচড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঝড়ো বাতাসে ‘পাকা ধান’ ক্ষেতে পড়ে থাকায় গজাচ্ছে ধানের চারা।

কৃষক বায়েজিদ বলেন, এক বিঘা ধান কাটতে আগে ১৫০০-২০০০ টাকা লাগতো, এখন শ্রমিকই পাওয়া যায় না। পাইলেও ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা চায়। ধানের যে দাম, তাতে কামলা খরচ দিয়ে আমাদের কিছুই থাকে না। বৃষ্টির পানিতে অর্ধেক ধান নষ্ট হইয়া গেল।

মন্থনা এলাকার কৃষাণী রহিমা খাতুন জানান, স্বামী-স্ত্রী মিলে ‘পানি ভাঙি ধান কাটতেছি’। কামলা পাই নাই। ‘ধান কাইট্যা বাড়িত নেওয়াও কষ্ট, ভিজা ধান মাড়াই-শুকানো আরও ঝামেলা’।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গংগাচড়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ ভাগ ধান এখনও মাঠে। অসময়ের বৃষ্টিতে প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গংগাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বৃষ্টির কারণে কৃষক’রা চরম বিপাকে পড়েছেন। আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নিরাপদ জায়গায় নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় কম্বাইন হারভেস্টার যন্ত্র ব্যবহারই এখন একমাত্র ভরসা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি প্রণোদনা ও কম সুদে কৃষি ঋণের দাবি জানিয়েছেন।