Dhaka ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

চাকরির টোপ’ দিয়ে ডেকে এনে পাঁচ খুন: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ট্রাকচালক বাবার হাতে রক্তাক্ত পুরো পরিবার

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : ০৬:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / ২০ বার

রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এখন শুধুই শোকের মাতম। যে ঘরে তিন শিশুর খিলখিল হাসি বাজত, সেই ঘরটাই হয়ে উঠেছে রক্তস্নাত মৃত্যুপুরী। মাদক, যৌতুক আর পারিবারিক কলহের করুণ পরিণতিতে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়েছে পেশায় ট্রাকচালক মোঃ ফোরকান মিয়া (৪০)।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে কাপাসিয়া ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ঘটে পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ড। শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্ত্রী শারমিন খানম’কে (৪০) জানালার গ্রিলের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। পাশের বিছানায় নিথর পড়ে ছিল বড় মেয়ে মিম (১৬), মেজো মেয়ে মারিয়া (৮), দুই বছরের ছোট্ট ফারিয়া এবং শ্যালক রসুলের (২২) গলাকাটা লাশ।

স্বজনদের অভিযোগ, এটি ঠাণ্ডা মাথার পরিকল্পিত খুন। শ্যালক রসুলকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে এনেছিল ফোরকান। হয়তো ভাগ্নিদের চোখের সামনেই প্রাণ দিতে হয়েছে মামাকে। শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি কোলের দুধের শিশুটিও।

নিহত শারমিনের চাচি ইভা রহমান জানান, যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই শারমিনের ওপর চলত নির্যাতন। সেই ক্ষোভ আর মাদকের নেশাই কেড়ে নিল পাঁচটি প্রাণ।

ঘটনাস্থলে প্রতিটি লাশের পাশেই পাওয়া গেছে প্রিন্ট করা কিছু রহস্যময় কাগজ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো কোনো মামলার নথি। পাশাপাশি ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম। মাদকাসক্তি আর দাম্পত্য কলহের বিষাক্ত মিশেলেই কি ঘটল এই নৃশংসতা— সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।

হত্যার পর ফোনে স্বীকারোক্তি, পলাতক ঘাতক পালিয়ে গেলেও নিজের পাপের কথা গোপন রাখেনি ফোরকান। এক আত্মীয়কে ফোন করে নিজেই হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছে সে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, ঘাতক নিজেই ফোনে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। ফরেনসিক টিম কাজ করছে, একাধিক সংস্থা মাঠে নেমেছে।

ঘটনার পর থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। পুরো কাপাসিয়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একজন বাবার হাতে তার সাজানো সংসার এভাবে তছনছ হয়ে যাওয়ার ঘটনা স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা গাজীপুরকে। ঘাতক ফোরকানকে ধরতে চলছে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান।

Tag :

চাকরির টোপ’ দিয়ে ডেকে এনে পাঁচ খুন: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ট্রাকচালক বাবার হাতে রক্তাক্ত পুরো পরিবার

আপডেট টাইম : ০৬:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এখন শুধুই শোকের মাতম। যে ঘরে তিন শিশুর খিলখিল হাসি বাজত, সেই ঘরটাই হয়ে উঠেছে রক্তস্নাত মৃত্যুপুরী। মাদক, যৌতুক আর পারিবারিক কলহের করুণ পরিণতিতে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়েছে পেশায় ট্রাকচালক মোঃ ফোরকান মিয়া (৪০)।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে কাপাসিয়া ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ঘটে পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ড। শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্ত্রী শারমিন খানম’কে (৪০) জানালার গ্রিলের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। পাশের বিছানায় নিথর পড়ে ছিল বড় মেয়ে মিম (১৬), মেজো মেয়ে মারিয়া (৮), দুই বছরের ছোট্ট ফারিয়া এবং শ্যালক রসুলের (২২) গলাকাটা লাশ।

স্বজনদের অভিযোগ, এটি ঠাণ্ডা মাথার পরিকল্পিত খুন। শ্যালক রসুলকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে এনেছিল ফোরকান। হয়তো ভাগ্নিদের চোখের সামনেই প্রাণ দিতে হয়েছে মামাকে। শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি কোলের দুধের শিশুটিও।

নিহত শারমিনের চাচি ইভা রহমান জানান, যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই শারমিনের ওপর চলত নির্যাতন। সেই ক্ষোভ আর মাদকের নেশাই কেড়ে নিল পাঁচটি প্রাণ।

ঘটনাস্থলে প্রতিটি লাশের পাশেই পাওয়া গেছে প্রিন্ট করা কিছু রহস্যময় কাগজ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো কোনো মামলার নথি। পাশাপাশি ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম। মাদকাসক্তি আর দাম্পত্য কলহের বিষাক্ত মিশেলেই কি ঘটল এই নৃশংসতা— সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।

হত্যার পর ফোনে স্বীকারোক্তি, পলাতক ঘাতক পালিয়ে গেলেও নিজের পাপের কথা গোপন রাখেনি ফোরকান। এক আত্মীয়কে ফোন করে নিজেই হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছে সে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, ঘাতক নিজেই ফোনে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। ফরেনসিক টিম কাজ করছে, একাধিক সংস্থা মাঠে নেমেছে।

ঘটনার পর থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। পুরো কাপাসিয়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একজন বাবার হাতে তার সাজানো সংসার এভাবে তছনছ হয়ে যাওয়ার ঘটনা স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা গাজীপুরকে। ঘাতক ফোরকানকে ধরতে চলছে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান।