Dhaka ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

মোংলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি এ এইচ এম লুৎফুল কবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে ধীরগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / ১১৩ বার

ওমর ফারুক : মোংলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর (ওসি) এ এইচ এম লুৎফুল কবিরের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তদন্তে এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে আমার দেশ, সমকাল, যুগান্তর, প্রতিদিনের কাগজ, সময়ের কন্ঠসহ একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ উঠে আসে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবেদন প্রকাশের পরও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,
“বারবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলেও ঘাট এলাকায় আগের মতোই অনিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ চলছে। আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে আছি।”
নৌযান শ্রমিক আলমগীর হোসেন জানান,
“ঘাটে কাজ করতে গেলে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে আমরা নিয়মিত সমস্যায় পড়ছি এবং কাজ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে ইন্সপেক্টর এ এইচ এম লুৎফুল কবির পূর্বে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন,
“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি। যদি কোনো সদস্য অনিয়মে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে নৌ পুলিশ খুলনা অঞ্চলের পুলিশ সুপার ড. মঞ্জুর মোরশেদ জানিয়েছেন,
“বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে একাধিকবার বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পরও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তদন্তের গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ওসির নিজের মুখের চাঁদাবাজি ও ভাগ বাটোয়ারার অডিও জনসম্মুখে আসার পরেও তিনি অস্বীকার করেন কিভাবে? দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

মোংলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি এ এইচ এম লুৎফুল কবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে ধীরগতি

আপডেট টাইম : ১০:৫৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ওমর ফারুক : মোংলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর (ওসি) এ এইচ এম লুৎফুল কবিরের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তদন্তে এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে আমার দেশ, সমকাল, যুগান্তর, প্রতিদিনের কাগজ, সময়ের কন্ঠসহ একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ উঠে আসে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবেদন প্রকাশের পরও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,
“বারবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলেও ঘাট এলাকায় আগের মতোই অনিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ চলছে। আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে আছি।”
নৌযান শ্রমিক আলমগীর হোসেন জানান,
“ঘাটে কাজ করতে গেলে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে আমরা নিয়মিত সমস্যায় পড়ছি এবং কাজ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে ইন্সপেক্টর এ এইচ এম লুৎফুল কবির পূর্বে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন,
“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি। যদি কোনো সদস্য অনিয়মে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে নৌ পুলিশ খুলনা অঞ্চলের পুলিশ সুপার ড. মঞ্জুর মোরশেদ জানিয়েছেন,
“বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে একাধিকবার বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পরও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তদন্তের গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ওসির নিজের মুখের চাঁদাবাজি ও ভাগ বাটোয়ারার অডিও জনসম্মুখে আসার পরেও তিনি অস্বীকার করেন কিভাবে? দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।