শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: ফরেনসিক প্রতিবেদনে উঠে এলো গা শিউরে ওঠা তথ্য
- আপডেট টাইম : ১২:৩০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
- / ৭ বার

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) হত্যার আগে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে ফরেনসিক ও ডিএনএ প্রোফাইলিং প্রতিবেদন। ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাই রামিসাকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে।
গতকাল শনিবার সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এই ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, সরকারের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী আজ রোববার (২৪ মে) বিকেলের মধ্যেই আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে। খসড়া তৈরি শেষে বর্তমানে সিডিএমএস (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) সফটওয়্যারে ডেটা এন্ট্রি করাসহ কিছু কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে পুলিশ। এই দ্রুততম সময়ে দাখিল হতে যাওয়া চার্জশিটে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
এর আগে গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেন যে, ঘটনার পূর্বে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন এবং এরপরই শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
এদিকে দেশ কাঁপানো এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে শেষ করতে স্বয়ং আইন মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করেছেন যে, আসন্ন ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হবে।
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার এই বর্বরোচিত ঘটনায় সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো টানা আন্দোলন ও বিক্ষোভ চলছে।
ঘটনার পরদিনই নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুততম সময়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ইতোমধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত রামিসার বাসায় গিয়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এই পৈশাচিক অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।



















