গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যপক দৌরাত্ম্যপনা ও চাঁদাবাজীর অভিযোগ উঠেছে। তার রয়েছে খোরশেদ আলিশান ভিলা নামের বিলাশবহুল ভবন। অপর দিকে,তার এসব অপকর্মের কারণে কালিহাতী থানা পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যপারে সোহেল শিকদার নামের তার এক দোসরকে পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কনস্টেবল ক/১২৯৬ বিপি ৯২১১১৩৭১৭১ আনিসুর রহমান বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে নিয়োগ পান। তিনি ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৩ জুন পর্যন্ত টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানায় দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে সে কালিহাতী থানার কর্মরত পর্যায়ক্রমে ৩ জন ওসির বডিগার্ড থাকার সুবাদে কালিহাতী উপজেলার নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদেরসহ বিভিন্ন অসাধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ওসিদের নামে নিয়মিত মাসোহারা নেয়ার অভিযোগ উঠেছিলো৷
জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর কালিহাতী উপজেলার জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিরুদ্ধে মদদ দাতা ওয়ারেন্ট ভুক্ত আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং মামলার আসামী করার ভয় ভীতি প্রদর্শন, হুমকি ধামকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার নজির মিলেছে।
ওই সময়ে আনিসুর ওসিদের বডিগার্ড থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস করতো না।
এবং কি জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ব্লাকমেইল করে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা। আনিস কালিহাতীতে দায়িত্ব পালনের সময়ে ওসিদের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ী, বালু মহাল, মাটি কাটার পয়েন্ট, ইট ভাটা, ভাংগারী ব্যবসায়ী,সমিল এবং উপজেলার ভুক্তা সহ অন্যান্য গ্রামে প্রায় ১৮/১৯ টি বিড়ি ফ্যক্টরী মালিকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ওসিদের নাম ভাঙ্গিয়ে মোটা অংকের টাকা মাসিক মাসোহারা হিসাবে নিতো।
এ সময় তার চাঁদাবাজির জন্যে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী,ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলো।
তার এসব অপকর্ম শুধুমাত্র চাঁদাবাজীতেই সীমাবদ্ধ রইনি। সে কালিহাতী থানার কনস্টেবল আরমিন সুলতানা বিপি- ৯৬১৫১৮১৯৫৭ কে বিভিন্ন সময়ে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো।
যার ফলশ্রুতিতে বিগত ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট রাত্রি আনুমানিক ২-২৫ মিনিটে ডিউটি শেষে তার বাসায় যাওয়ার সময়ে কালিহাতী থানা মসজিদের পশ্চিম পাশে নির্জন রাস্তার উপর আরমিন সুলতানাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছিল আনিস। এ বিষয়ে গত ২৬/৮/২০২৫ তারিখে ওই কনস্টেবল(মহিলা) প্রতিকার চেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের নিকট একটি অভিযোগ করলে পুলিশ সুপার তাকে ৩ দিনের পিডি(শাস্তি দেন), পরবর্তীতে মাফ চেয়ে অভিযোগ হতে অব্যহতি নেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার আনিসকে বদলী করে দেন। বর্তমানে তার কর্মস্থল গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার মৌচাক পুলিশ ফাড়িতে হলেও বিভিন্ন অপ কৌশলে বেশির ভাগ সময়ে কালিহাতী সাতুটিয়ার রয়েছে তার ভাড়াটিয়া বাসা।
সেখানে সপ্তাহে ২/৩ দিন অবস্থান করে একই অপ কৌশল অবলম্বন করে বর্তমানে কালিহাতী থানার ওসিসহ টাঙ্গাইলের বর্তমান পুলিশ সুপারের নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যপক চাঁদাবাজিতে লিপ্ত আছে বলে নির্ভরশীল সুত্র জানিয়েছে।
তার এসব অপকর্ম নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে তড়িগড়ি করে সে কালিহাতী পৌর এলাকা
বেতডোবায় বাসা নিয়ে মৌচাক থেকে ছুটি ছাড়া কালিহাতীতে অবস্থান করে একই অপকৌশলে তার চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছেন।
বিভিন্ন নির্ভরশীল সুত্র থেকে জানা যায়, সে এখনো প্রতি মাসে কালিহাতী থানার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ী, ইট ভাটা, সমিল, ভাঙ্গারির ব্যবসায়ী, বিড়ি ফ্যাক্টরি সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছ থেকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে নিয়মিত মাসোহারা নিচ্ছে। শুধু তাই নয় বর্তমান সময়ে সে আওয়ামীলীগ নেতাদের গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী শান্ত ও আরিফের সাথে সখ্যতা তৈরী করে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তা জনিত কারণে অনেকেই মুখ খুলতে চান না বলে জানিয়েছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত আনিসুর রহমান মুঠোফোনে বলেন,এসব অভিযোগ মিথ্যা।তবেকালিহাতী থানা পুলিশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে তার দোসর হিসেবে পরিচিত সোহেল শিকদার প্রসঙ্গে বলেন,পুলিশ তাকে মারপিট করে আমার নাম বলিয়েছে।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার আওতাধীন মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শামীম আহমেদ শুক্রবার (১৫ মে) বিকালে
মুঠোফোনে বলেন,আমার এখানে আনিস নামের কনস্টেবল কিছুদিন আগে যোগদান করেছে।তবে সে কালিহাতী গিয়ে যদি চাঁদাবাজী করে থাকে সেটি স্থানীয় পুলিশ প্রসাশনের তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।
এবিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) জেওএম তৌফিক আজম জানান, আনিসুর রহমান নামে এক কনস্টেবল চাঁদাবাজির বিষয়ে আমি শুনেছি। সে ইতিপূর্বে কালিহাতী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে তার এক দোসরকে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করার কারণে আমরা তাকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছি। আটককৃত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে এসব কর্মকাণ্ড তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কনস্টেবল আনিস করিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ বোরহান হাওলাদার জসিম, বার্তা সম্পাদক ,মোহাম্মদ জাকির
মফস্বল সম্পাদক মোঃ ফোরকান কাজী
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১৬০, ফকিরের পোল গরম পানি গলি মতিঝিল ঢাকা ১০০০ । ম্পাদককর্তৃক শামীম প্রিন্টিং প্রেস,১৯৪/৫,ফকিরেরপুল থেকে মুদ্রিত,মতিঝিল ঢাকা ১০০০। মোবাইল নম্বরঃ ০১৮১৩২৭০৬৩৪ ইমেলঃ anatarmadhyam@gmail.com মেসার্স ন্যাশনাল সময়ের কন্ঠ কোম্পানি
Copyright © 2026 দৈনিক সময়ের কন্ঠ পত্রিকা . All rights reserved.