Dhaka ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

গংগাচড়ার মন্থনা বাজারে অনলাইন ক্যাসিনোর থাবা: কিশোর থেকে বৃদ্ধ সবাই আসক্ত, যেন পারিবারিক ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃ হাসান আলী
  • আপডেট টাইম : ০৮:২০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • / ৬২ বার

রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলার বড় বিল মন্থনা বাজারে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন ক্যাসিনো জুয়া। ১২ বছরের কিশোর থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সী মানুষ এই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এটি এখন যেন একটি ‘পারিবারিক ব্যবসায়’ পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মন্থনা বাজারের ফুটবল খেলার মাঠটি সন্ধ্যা হলেই রূপ নেয় ক্যাসিনোর আসরে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে দলবেঁধে তরুণ-যুবক এমনকি মুরব্বিরাও বসে পড়েন অনলাইন জুয়ায়। রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে খেলোয়াড়ের সংখ্যা। মনে হয় যেন ক্যাসিনো খেলার জন্যই বাজার বসেছে সেখানে।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আগে বিকালবেলা ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলত। এখন মাঠের কোনায় কোনায় ১০-১৫ জনের দল করে মোবাইলে জুয়া খেলে। দোকানের কর্মচারী, রিকশাচালক, ছাত্র— কেউ বাদ নেই। বাপ-ছেলেকেও একসাথে বসে খেলতে দেখেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলছাত্র জানায়, বিকাশে টাকা লোড দিয়ে অ্যাপে ঢুকলেই খেলা যায়। প্রথমে ২০০-৩০০ টাকা জিতছিলাম। এখন দিনে ২-৩ হাজার টাকা হারি। নেশা হয়ে গেছে, ছাড়তে পারি না।

অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, কিশোররা পড়াশোনা বাদ দিয়ে, গৃহবধূরা সংসারের টাকা সরিয়ে এই জুয়ায় মেতেছে। অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। চুরি-ছিনতাইও বাড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চললেও দেখার যেন কেউ নেই। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে অনলাইন ক্যাসিনো।

এ বিষয়ে গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অনলাইন জুয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা দ্রুত অভিযান চালাব। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। সন্তানরা মোবাইলে কী করছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

গংগাচড়া মডেল থানার ওসি জানান, তথ্য পেলে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নেব। সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। যারা এই অ্যাপের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে তাদের তালিকা করা হচ্ছে।

Tag :

গংগাচড়ার মন্থনা বাজারে অনলাইন ক্যাসিনোর থাবা: কিশোর থেকে বৃদ্ধ সবাই আসক্ত, যেন পারিবারিক ব্যবসা

আপডেট টাইম : ০৮:২০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলার বড় বিল মন্থনা বাজারে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন ক্যাসিনো জুয়া। ১২ বছরের কিশোর থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সী মানুষ এই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এটি এখন যেন একটি ‘পারিবারিক ব্যবসায়’ পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মন্থনা বাজারের ফুটবল খেলার মাঠটি সন্ধ্যা হলেই রূপ নেয় ক্যাসিনোর আসরে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে দলবেঁধে তরুণ-যুবক এমনকি মুরব্বিরাও বসে পড়েন অনলাইন জুয়ায়। রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে খেলোয়াড়ের সংখ্যা। মনে হয় যেন ক্যাসিনো খেলার জন্যই বাজার বসেছে সেখানে।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আগে বিকালবেলা ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলত। এখন মাঠের কোনায় কোনায় ১০-১৫ জনের দল করে মোবাইলে জুয়া খেলে। দোকানের কর্মচারী, রিকশাচালক, ছাত্র— কেউ বাদ নেই। বাপ-ছেলেকেও একসাথে বসে খেলতে দেখেছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলছাত্র জানায়, বিকাশে টাকা লোড দিয়ে অ্যাপে ঢুকলেই খেলা যায়। প্রথমে ২০০-৩০০ টাকা জিতছিলাম। এখন দিনে ২-৩ হাজার টাকা হারি। নেশা হয়ে গেছে, ছাড়তে পারি না।

অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, কিশোররা পড়াশোনা বাদ দিয়ে, গৃহবধূরা সংসারের টাকা সরিয়ে এই জুয়ায় মেতেছে। অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। চুরি-ছিনতাইও বাড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চললেও দেখার যেন কেউ নেই। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে অনলাইন ক্যাসিনো।

এ বিষয়ে গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অনলাইন জুয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা দ্রুত অভিযান চালাব। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। সন্তানরা মোবাইলে কী করছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

গংগাচড়া মডেল থানার ওসি জানান, তথ্য পেলে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নেব। সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। যারা এই অ্যাপের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে তাদের তালিকা করা হচ্ছে।