Dhaka ০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

দেহ থেকে মাথা বিছিন্ন লাশ, মূল আসামীদের গ্রেফতার, আলামত জব্দ ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, জামালপুর:
  • আপডেট টাইম : ০৭:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / ৫ বার

চলতি ১৮ই মে ২৬ শেরপুর থানাধীন চরপক্ষীমারী ইউপি নতুন বাগলগড় গ্রামের জনৈক মানিক মাস্টারের বাড়ির উত্তর দিকে সোহেল মিয়ার নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেতে দেহ থেকে মাথা বিছিন্ন অর্ধগলিত অজ্ঞাতনামা একটা লাশ পাওয়া যায়।মো:সাইফুল ইসলাম অজ্ঞাত লাশের খরব পেয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং মৃতদের পরিহিত ট্রাউজার এবং জুতা দেখে তার ছেলে আলামিন বলে সনাক্ত করেন এবং ১৯-০৫-২০২৬ খ্রি: শেরপুর সদর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩৯।

জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব পংকজ দত্ত, পিপিএম এর সার্বিক তত্বাবধানে উক্ত মামলার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অত্র মামলার আসামী শুভ (১৯), পিতা উজ্জল, মাতা হামিদা বেগম, সাং, পাথালিয়া সন্ধিক্লাব, থানা ও জেলা জামালপুর ১৯-০৫-২০২৬ খ্রি:তারিখ বিকাল সাড়ে পাঁচটায় শেরপুর জেলার বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। আসামি শুভর এর দেওয়া তথ্যমতে, অপর আসামি সম্রাটকে (২০), পিতা:দুলাল মিয়া তার নিজ বাড়ি জামালপুর সদর থানাধীন পাথালিয়া সন্ধিক্লাব হতে একই দিনে ৬ টা ১০মিনিটে গ্রেফতার করা হয়।আসামি শুভ বিজ্ঞ আদালতে স্বেচায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

বুধবার (২০ মে) বিকালে এক প্রেস বিফিং এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন:
জামালপুরে আলামিনের ডিভোর্সি বোনের সাথে প্রেম করে তার খালাতো ভাই শুভ। এই নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্যের পাশাপাশি চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আলামিনও শুভর বোনের সাথে প্রেম করার প্রেস্তাব দেয় শুভর কাছে, যাতে শুভ তার বোনের সাথে সম্পর্ক না রাখে। ঘটনার কিছু দিন পূর্বে শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আলামিনের কাছে ১ লাখ টাকা চায়। আলামিন এর বিনিময়ে শুভর বোনকে কাছে পেতে প্রস্তব দিলে শুভ অপমানের বদলা নিতে পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনানুযায়ী আসামী শুভ তার সহযোগী আসামী সম্রাট কে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তাতে আসামী সম্রাট রাজি হয়। অত:পর আসামি শুভ তার পরিকল্পনা মোতাবেক ১৩_০৫_২০২৬ খ্রি:দুপুর অনুমান ১২•২০ ঘটিকার দিকে কৌশলে ডিসিস্ট আলামিনকে তার বন্ধু শান্ত’র মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থলের দিকে নিয়য় যায় এবং আসামি শুভ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বে তার বাডি হতে একটি ধারালো চাকু নিয়ে যায়। উক্ত সময়ে কৌশলে আসামি শুভ আসামি সম্রাটকে ঘটনাস্থলের দিকে যেতে বলে। ঘটনাস্থলে তারা ০৩ জন পৌছার পর ডিসিস্ট আলামিন অমনোযোগী হয়ে মোবাইল চালাতে থাকায়, সেই সুযোগে আসামি শুভ ঘটনাস্থলের পাশে থাকা লাইলনের চিকন দড়ি দিয়ে পিছন থেকে ডিসিস্ট আলামিনকে গলায় পেঁছিয়ে ধরে। এতে ডিসিস্ট আলামিন নিস্তেজ হয়ে পড়লে আসামি সম্রাট ডিসিস্টের মাথা ধরে রাখে। তখন আসামি শুভ তার প্যান্টের পকেটে থাকা চাকু দিয়ে ডিসিস্ট আলামিনের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। আসামি শুভর তথ্য মতে হত্যাকান্ডে ডিসিস্টকে ঘটনাস্থলে নেওয়ায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং মামলার ঘটনাস্থল হতে তার দেখানো মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রশি জব্দ করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।

Tag :

দেহ থেকে মাথা বিছিন্ন লাশ, মূল আসামীদের গ্রেফতার, আলামত জব্দ ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আপডেট টাইম : ০৭:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

চলতি ১৮ই মে ২৬ শেরপুর থানাধীন চরপক্ষীমারী ইউপি নতুন বাগলগড় গ্রামের জনৈক মানিক মাস্টারের বাড়ির উত্তর দিকে সোহেল মিয়ার নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেতে দেহ থেকে মাথা বিছিন্ন অর্ধগলিত অজ্ঞাতনামা একটা লাশ পাওয়া যায়।মো:সাইফুল ইসলাম অজ্ঞাত লাশের খরব পেয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং মৃতদের পরিহিত ট্রাউজার এবং জুতা দেখে তার ছেলে আলামিন বলে সনাক্ত করেন এবং ১৯-০৫-২০২৬ খ্রি: শেরপুর সদর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩৯।

জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব পংকজ দত্ত, পিপিএম এর সার্বিক তত্বাবধানে উক্ত মামলার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অত্র মামলার আসামী শুভ (১৯), পিতা উজ্জল, মাতা হামিদা বেগম, সাং, পাথালিয়া সন্ধিক্লাব, থানা ও জেলা জামালপুর ১৯-০৫-২০২৬ খ্রি:তারিখ বিকাল সাড়ে পাঁচটায় শেরপুর জেলার বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। আসামি শুভর এর দেওয়া তথ্যমতে, অপর আসামি সম্রাটকে (২০), পিতা:দুলাল মিয়া তার নিজ বাড়ি জামালপুর সদর থানাধীন পাথালিয়া সন্ধিক্লাব হতে একই দিনে ৬ টা ১০মিনিটে গ্রেফতার করা হয়।আসামি শুভ বিজ্ঞ আদালতে স্বেচায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

বুধবার (২০ মে) বিকালে এক প্রেস বিফিং এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন:
জামালপুরে আলামিনের ডিভোর্সি বোনের সাথে প্রেম করে তার খালাতো ভাই শুভ। এই নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্যের পাশাপাশি চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আলামিনও শুভর বোনের সাথে প্রেম করার প্রেস্তাব দেয় শুভর কাছে, যাতে শুভ তার বোনের সাথে সম্পর্ক না রাখে। ঘটনার কিছু দিন পূর্বে শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আলামিনের কাছে ১ লাখ টাকা চায়। আলামিন এর বিনিময়ে শুভর বোনকে কাছে পেতে প্রস্তব দিলে শুভ অপমানের বদলা নিতে পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনানুযায়ী আসামী শুভ তার সহযোগী আসামী সম্রাট কে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তাতে আসামী সম্রাট রাজি হয়। অত:পর আসামি শুভ তার পরিকল্পনা মোতাবেক ১৩_০৫_২০২৬ খ্রি:দুপুর অনুমান ১২•২০ ঘটিকার দিকে কৌশলে ডিসিস্ট আলামিনকে তার বন্ধু শান্ত’র মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থলের দিকে নিয়য় যায় এবং আসামি শুভ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বে তার বাডি হতে একটি ধারালো চাকু নিয়ে যায়। উক্ত সময়ে কৌশলে আসামি শুভ আসামি সম্রাটকে ঘটনাস্থলের দিকে যেতে বলে। ঘটনাস্থলে তারা ০৩ জন পৌছার পর ডিসিস্ট আলামিন অমনোযোগী হয়ে মোবাইল চালাতে থাকায়, সেই সুযোগে আসামি শুভ ঘটনাস্থলের পাশে থাকা লাইলনের চিকন দড়ি দিয়ে পিছন থেকে ডিসিস্ট আলামিনকে গলায় পেঁছিয়ে ধরে। এতে ডিসিস্ট আলামিন নিস্তেজ হয়ে পড়লে আসামি সম্রাট ডিসিস্টের মাথা ধরে রাখে। তখন আসামি শুভ তার প্যান্টের পকেটে থাকা চাকু দিয়ে ডিসিস্ট আলামিনের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। আসামি শুভর তথ্য মতে হত্যাকান্ডে ডিসিস্টকে ঘটনাস্থলে নেওয়ায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং মামলার ঘটনাস্থল হতে তার দেখানো মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রশি জব্দ করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।