কসাইখানার নেপথ্যে ঢামেকের ২১১ নম্বর রুম? নবজাতক রেফারেল ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে নতুন প্রশ্ন
- আপডেট টাইম : ০৩:০৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
- / ৫১ বার

ঢাকা: সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) একটি নবজাতককে ঘিরে এমন কিছু তথ্য ও অভিযোগ সামনে এসেছে, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জাতীয় দৈনিক সময়ের কণ্ঠের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ঢামেকের ২১১ নম্বর শিশু চিকিৎসকের কক্ষসংলগ্ন এলাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি কথিত রেফারেল নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
‘বেবি অব মিম’-এর ঘটনাপ্রবাহ
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৯ মে দিবাগত রাতে নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার আল রাজী হাসপাতাল থেকে উচ্চ রক্তচাপ ও মুখমণ্ডলে বেলস পালসির লক্ষণ নিয়ে মিম নামের এক প্রসূতিকে ঢামেকের ২১৩ নম্বর লেবার রুমে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২০ মে ভোর আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
পরিবারের দাবি, জন্মের পর শিশুটির কান্না, নড়াচড়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক ছিল। তাদের ভাষ্যমতে, চিকিৎসকরাও প্রাথমিকভাবে শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই শিশুটিকে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন বলে জানানো হয়।
২১৩ নম্বর লেবার রুম থেকে ২১১ নম্বর কক্ষ
পরিবারের सदस्यों অভিযোগ, নবজাতককে ওটি থেকে বের করে ২১১ নম্বর কক্ষসংলগ্ন এলাকায় নেওয়ার পর ওয়ার্ড বয় শাওন এবং দালাল শান্তর মতো কিছু চক্র তাদের ঘিরে ধরে। তারা পরিবারটিকে জানায় যে হাসপাতালে কোনো বেড খালি নেই এবং এখানে রাখলে শিশুটিকে বাঁচানো যাবে না, তাই দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা তখন চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। ঠিক সেই সময় উক্ত ব্যক্তিরা বিকল্প হাসপাতালের পরামর্শ দেন এবং দ্রুত স্থানান্তরের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ ক্রিটিকাল কেয়ারে স্থানান্তর ও হেনস্থা
পরবর্তীতে নবজাতককে ফুসলিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ বেসরকারি হাসপাতাল ‘বাংলাদেশ ক্রিটিকাল কেয়ার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেড’-এ ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে চিকিৎসা ও উন্নত সেবার নামে শিশুটিকে কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং চিকিৎসার নামে বিভিন্ন অজুহাতে হাসপাতাল বিল মিলিয়ে তাদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় শিশুটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মূল চিকিৎসা নথিপত্র তারা আর হাতে পাননি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সুনির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ
অনুসন্ধান চলাকালে একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী রেফারেলকে কেন্দ্র করে একটি কমিশনভিত্তিক নেটওয়ার্ক কাজ করে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে থাকা কিছু ব্যক্তি রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া বাইরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সঙ্গে যোগাযোগ, রোগী রেফারেল এবং কমিশন সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত
স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীরা বলছেন, রোগী রেফারেল, বেড সংকট, চিকিৎসা ব্যয় এবং কমিশন বাণিজ্যের মতো অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। ভুক্তভোগী পরিবারও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
(অনুসন্ধান চলমান)



















