ফুলবাড়ীতে বিপথগামী স্ত্রীর একাধিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে স্বামীর সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট টাইম : ০৯:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- / ১৪ বার

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিপথগামী স্ত্রীর একাধিক ষড়যন্ত্র ও বানোয়াট-ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের শিকার স্বামীর সংবাদ সম্মেলন করেছে। মূলতঃ প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ষড়যন্ত্রের শিকার স্বামী দেলোয়ার হোসেন মামুন।
তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুলবাড়ীতে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন এবং স্থানীয়ভাবে একজন
সুপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে
সুখ্যাতি আছে। কিন্তু গত ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসত্য ও মনগড়া অভিযোগ তুলে ধরেন তার স্ত্রী মিনারা পারভীন। যাতে তার সামাজিক ও পারিবারিকভাবে সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার স্ত্রী ওই সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তাকে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বিষয়ে তার বক্তব্যে জানান সে কোনভাবেই এবং কখনোই মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিল না এবং এখনই নয়। তার মাদকাসক্তের অভিযোগের বিপরীতে রংপুরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার তার শরীরে কোন ধরনের মাদকের অভ্যাস ও অস্তিত্ব পায়নি উল্লেখ করে সার্টিফিকেট প্রদান করেছে। ব্যবসায়ী মামুন জানান, সকাল থেকে রাত অব্দি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে, কোনভাবেই তার পক্ষে মাদকে জড়ানো বা সময় দেওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। তার বিপথগামী স্ত্রী মিনারা পারভীনকে এমন বানোয়াট বিষয়ে কুবুদ্ধি দেয়ার জন্য, আমার করা মামলার দুই নম্বর আসামী ফুলবাড়ীর এনসিপি নেতা জাকির হোসেন ব্যাপকভাবে প্রলুব্ধ ও উৎসাহ প্রদান করেছে। তিনি বলেন, জাকির হোসেন আমাকে ও মিনারা পারভীনকে নিয়ে বিভিন্ন রকমের পোস্ট দিয়ে আমাকে সামাজিক ও ব্যবসায়ীকভাবে মান-সম্মান হানি করেছে বলে আমি মনে করি। তার স্ত্রী মিনারা পারভীন লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করে যে. আমি নিয়মিত নির্যাতন ও শারীরিকভাবে মারধর করি। এই অভিযোগটি কোনভাবেই সঠিক নয়। আমার দীর্ঘ দুই যুগের সাংসারিক জীবনে যদি তাকে নির্যাতন করতামই বা করেই থাকি, তাহলে সে এই সংক্রান্তে কোন অভিযোগ স্থানীয় প্রতিনিধি, থানা কিংবা আদালতের কাছে অভিযোগ করেনি কেন? মিনারা বেগম বলেন, সন্তানকে কোন প্রকার ভরণপোষণ দেই না। এটিও সম্পূর্ণ হাস্যকর ও অবাস্তব একটি অভিযোগ। সন্তানদেরকে সে তার প্রাণের চেয়েও ভালোবাসে উল্লেখ করে বলে, আমার সন্তানদেরকে আমি তাদের চাহিদামত যথেষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান করি এবং আমার মেয়ের বে-সরকারি মেডিকেলে লেখাপড়া বাবদ এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করেছি। যার ব্যাংক ডকুমেন্ট আমার কাছে রয়েছে। মিনারা পারভীন তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করেন যে, সে অনেক চেষ্টা করেছে আমাকে ভালো করার জন্য। এটিও হাস্যকর! আসলে সে নিজেই পথভ্রষ্ট একজন মহিলা। সে গত ২ বছর ২ মাস পূর্বে তার বাসা হতে ব্যবসায়ীক কাজে রাখা ৫০ লক্ষ টাকা ও ২০ ভরি সোনার গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়। সে তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগে করে যে, সে আমার বিরুদ্ধে প্রায় ৮মাস পূর্বে নারী নির্যাতন মামলা করে সেটিও কিন্তু সম্পূর্ণ রুপে মিথ্যা।
উল্টো বিপুল অংকের টাকা ও সোনার গহনা নিয়ে পালিয়ে যাবার পরে নিজেকে রক্ষার জন্য পালিয়ে যাবার প্রায় ১বছর ৬ মাস পরে ১টি যৌতুকের মামলা করে। আমার সাথে তার ২ বছর ২মাস থেকে কোন প্রকার যোগাযোগ নেই।সেক্ষেত্রে কোন আইনে সে নারী নির্যাতন মামলা করেছে বলে-মিথ্যাচার করছে? কারণ, ২ বছর ২মাস তো তার সংসারেই সে ছিল না।
সে আরো লোমহর্ষক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, গত ২৬.০৩.২৬ তারিখ রাতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফেরার পথে আমার পথরোধ করে বানোয়াট-ভিত্তিহীন অভিযোগকারী মিনারা পারভীনের ভাই, বহুল পরিচিত চাঁদাবাজ ও নেশাগ্রস্ত জাহাঙ্গীর হাসান মিলন (ওরফে বোতল মিলন) এবং সাংবাদিক নামধারী ও এনসিপি থেকে বহিস্কৃত নেতা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল তাকে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মারধর করে ও অপহরণের উদ্দেশ্যে তার বাসার সামনে থেকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়।
এ সংক্রান্তে একটি মামলা ফুলবাড়ী থানায় দায়ের করা হয়েছে। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের নিকট সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও বিচারের দাবি জানিয়েছে অসহায় মামুন।
সংবাদ সম্মেলনে তার বাবা ও ছোট ভাইসহ সংবাদ কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।




















