রাস্ট্রপতির অনুদান ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকে লিখিত অভিযোগ- তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের হস্তক্ষেপ দাবি পর্ব ২ চেয়েছেন মোসা.সাজেদা হক
- আপডেট টাইম : ০৭:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
- / ১১১ ০০০. ০০ বার

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুয়া চিকিৎসাপত্র তৈরি করে রাষ্ট্রপতির অনুদান তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল-মামুন (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: এ-৯২৩১৬) বর্তমানে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নিলফামারীতে কর্মরত বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, তিনি তার নিকটাত্মীয়দের বিভিন্ন জটিল ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত দেখিয়ে জাল চিকিৎসাপত্র প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে তার বোন মোসা. সাজেদা হকের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে অনুদানের আবেদন করা হয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন—মোসা. সাজেদা হক, মোসা. সায়লা হক, মোসা. সাইফুন নাহার, মোসা. শামীমা খাতুন, সানজিদা হক লাবনী এবং মো. আলী আনাম নয়ন।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এক ভুক্তভোগী বিষয়টি প্রকাশ করায় বর্তমানে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তিনি বাধ্য হয়ে গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ লিখিতভাবে দুর্নীতির তথ্য প্রদান করেন এবং অভিযোগপত্রের একটি কপি জমা দেন।
সূত্র জানায়, অভিযোগপত্রটি বিস্তারিত প্রমাণসহ দাখিল করা হলেও এখনো সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসেনি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। এতে করে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও জানা গেছে, অভিযোগ প্রকাশের পর অভিযুক্ত পক্ষের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠজন মোসা. সাজেদা হকের মাধ্যমে তথ্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন থানায় গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পরবর্তীতে নন-জিআর মামলা দায়েরের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের সমর্থনে চিকিৎসাপত্র, অনুদানের আবেদনসংক্রান্ত নথি এবং ব্যাংক লেনদেনের কপিসহ একাধিক প্রমাণ সংশ্লিষ্ট সূত্রের হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গভবনের অনুদান শাখা এবং অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন সম্ভব।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্যখাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি গুরুতর পেশাগত অনিয়ম ও প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তার চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।


















