Dhaka ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

কলমের মূল্য: জেল-জুলুমের ১৭-১৮ বছরেও যে কাগজ থামেনি*

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ০৩:১২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ১০৬ ০০০. ০০ বার

{"source_type":"vicut","data":{"client_key":"aw889s25wozf8s7e","source_type":"vicut","source_platform":"mobile_2","appVersion":"17.7.0","enterFrom":"image_edit_export_page","os":"android","product":"vicut","editType":"image_edit","region":"BD","picture_id":"VEYCGXOI-WTSX-DB7H-WAEA-MW5JJV6O3EXV","pictureId":"VEYCGXOI-WTSX-DB7H-WAEA-MW5JJV6O3EXV","capability_name":"capcut_photo_editor,ai_photo_editor"},"tiktok_developers_3p_anchor_params":"{"client_key":"aw889s25wozf8s7e","source_type":"vicut","source_platform":"mobile_2","appVersion":"17.7.0","enterFrom":"image_edit_export_page","os":"android","product":"vicut","editType":"image_edit","region":"BD","picture_id":"VEYCGXOI-WTSX-DB7H-WAEA-MW5JJV6O3EXV","pictureId":"VEYCGXOI-WTSX-DB7H-WAEA-MW5JJV6O3EXV","capability_name":"capcut_photo_editor,ai_photo_editor"}"}

“দৈনিক সময়ের কন্ঠ”-নামটা শুনলেই অনেকে বলেন “এটা মানুষের কথা বলে”। হ্যাঁ, আমরা মানুষের কথা বলতে গিয়েই বারবার রাষ্ট্রের রোষানলে পড়েছি। গত ১৭-১৮ বছর ধরে মিথ্যা মামলা, জেল-হাজত, হয়রানি – এগুলো আমাদের নিত্যসঙ্গী।

সমাজে একটা প্রচলন আছে – ক্ষমতায় যে দলই আসুক, “সুবিধাভোগী দালাল” শ্রেণিটা ঠিকই সুবিধা নেয়। আর যারা নীতির জন্য, সত্যের জন্য কলম ধরে,তারা “অসুবিধার” তালিকায় পড়ে যায়। গণমাধ্যমের বড় অংশ যখন তোষামোদের প্রতিযোগিতায় নামে, তখন “দৈনিক সময়ের কন্ঠ” এর মতো ছোট কাগজগুলো অনিয়মের খবর ছাপানোর “অপরাধে” মামলার বোঝা মাথায় নেয়।

আমাদের প্রকাশক ও সম্পাদক বোরহান হাওলাদার জসিমের বিরুদ্ধে কত মামলা হয়েছে তার হিসাব নাই। উদ্দেশ্য একটাই- কলম থামিয়ে দেওয়া। জেলে পাঠিয়ে, হুমকি দিয়ে, বিজ্ঞাপন বন্ধ করে – নানা কায়দায় চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু ১৭ বছর পরেও এই কাগজ বন্ধ হয়নি। কারণ পাঠকরা জানেন, এই কাগজ মিথ্যা লেখে না। রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক চাঁদাবাজ ভূমি দস্যদের এবং আদালতের বিচারপতির খবর হোক, আর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যাংক কর্মচারীদের কলম বিরতি – আমরা অভিযোগের ভাষায় হলেও সত্যটা ছাপি।

দুঃখের বিষয় হলো, ক্ষমতার পালাবদল হয়,কিন্তু সাংবাদিক নির্যাতনের সংস্কৃতি বদলায় না। যারা গত ১৭ বছরে “দালালি প্রশাসনিক ও দলের সুবিধা” নিয়েছে, তারাই আজও ভালো আছে। আর যারা জেল খেটেছে, মামলা লড়েছে – তাদের খোঁজ কেউ রাখে না। কোনো দলই সাংবাদিক সুরক্ষা আইন নিয়ে আন্তরিক ছিল না। কথা দিয়েছে সবাই, বাস্তবায়ন করেছে কেউ না।

“দৈনিক সময়ের কন্ঠ” কারো দালালি করে না। আমরা দালি করি সত্যের, মানুষের। আমাদের অপরাধ একটাই – অন্যায় দেখলে “অভিযোগ আছে” লিখে দিই। এর জন্য যদি আরও জেল খাটতে হয়, তাও খাটবো। কলম বিক্রি করবো না।

এই দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে শুধু বড় মিডিয়ার স্বাধীনতা না। “সময়ের কন্ঠ” এর মতো স্থানীয়, সাহসী কাগজগুলো টিকে থাকা মানে গণতন্ত্রের শেষ প্রদীপটা জ্বলে থাকা।

সরকার, রাজনৈতিক দল ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান – মিথ্যা মামলায় সাংবাদিক হয়রানি বন্ধ করুন। সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করুন। মনে রাখবেন, আজ আপনি যাকে জেলে পাঠাচ্ছেন, কাল সে-ই আপনার অনিয়মের খবর লিখবে না – এটা ভাবা বোকামি।

কলম চলবে। ইনশাআল্লাহ।

*বোরহান হাওলাদার জসিম*
চেয়ারম্যান, প্রকাশক ও সম্পাদক
দৈনিক সময়ের কন্ঠ

জাতীয় নিউজ

কলমের মূল্য: জেল-জুলুমের ১৭-১৮ বছরেও যে কাগজ থামেনি*

আপডেট টাইম : ০৩:১২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

“দৈনিক সময়ের কন্ঠ”-নামটা শুনলেই অনেকে বলেন “এটা মানুষের কথা বলে”। হ্যাঁ, আমরা মানুষের কথা বলতে গিয়েই বারবার রাষ্ট্রের রোষানলে পড়েছি। গত ১৭-১৮ বছর ধরে মিথ্যা মামলা, জেল-হাজত, হয়রানি – এগুলো আমাদের নিত্যসঙ্গী।

সমাজে একটা প্রচলন আছে – ক্ষমতায় যে দলই আসুক, “সুবিধাভোগী দালাল” শ্রেণিটা ঠিকই সুবিধা নেয়। আর যারা নীতির জন্য, সত্যের জন্য কলম ধরে,তারা “অসুবিধার” তালিকায় পড়ে যায়। গণমাধ্যমের বড় অংশ যখন তোষামোদের প্রতিযোগিতায় নামে, তখন “দৈনিক সময়ের কন্ঠ” এর মতো ছোট কাগজগুলো অনিয়মের খবর ছাপানোর “অপরাধে” মামলার বোঝা মাথায় নেয়।

আমাদের প্রকাশক ও সম্পাদক বোরহান হাওলাদার জসিমের বিরুদ্ধে কত মামলা হয়েছে তার হিসাব নাই। উদ্দেশ্য একটাই- কলম থামিয়ে দেওয়া। জেলে পাঠিয়ে, হুমকি দিয়ে, বিজ্ঞাপন বন্ধ করে – নানা কায়দায় চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু ১৭ বছর পরেও এই কাগজ বন্ধ হয়নি। কারণ পাঠকরা জানেন, এই কাগজ মিথ্যা লেখে না। রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক চাঁদাবাজ ভূমি দস্যদের এবং আদালতের বিচারপতির খবর হোক, আর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যাংক কর্মচারীদের কলম বিরতি – আমরা অভিযোগের ভাষায় হলেও সত্যটা ছাপি।

দুঃখের বিষয় হলো, ক্ষমতার পালাবদল হয়,কিন্তু সাংবাদিক নির্যাতনের সংস্কৃতি বদলায় না। যারা গত ১৭ বছরে “দালালি প্রশাসনিক ও দলের সুবিধা” নিয়েছে, তারাই আজও ভালো আছে। আর যারা জেল খেটেছে, মামলা লড়েছে – তাদের খোঁজ কেউ রাখে না। কোনো দলই সাংবাদিক সুরক্ষা আইন নিয়ে আন্তরিক ছিল না। কথা দিয়েছে সবাই, বাস্তবায়ন করেছে কেউ না।

“দৈনিক সময়ের কন্ঠ” কারো দালালি করে না। আমরা দালি করি সত্যের, মানুষের। আমাদের অপরাধ একটাই – অন্যায় দেখলে “অভিযোগ আছে” লিখে দিই। এর জন্য যদি আরও জেল খাটতে হয়, তাও খাটবো। কলম বিক্রি করবো না।

এই দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে শুধু বড় মিডিয়ার স্বাধীনতা না। “সময়ের কন্ঠ” এর মতো স্থানীয়, সাহসী কাগজগুলো টিকে থাকা মানে গণতন্ত্রের শেষ প্রদীপটা জ্বলে থাকা।

সরকার, রাজনৈতিক দল ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান – মিথ্যা মামলায় সাংবাদিক হয়রানি বন্ধ করুন। সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করুন। মনে রাখবেন, আজ আপনি যাকে জেলে পাঠাচ্ছেন, কাল সে-ই আপনার অনিয়মের খবর লিখবে না – এটা ভাবা বোকামি।

কলম চলবে। ইনশাআল্লাহ।

*বোরহান হাওলাদার জসিম*
চেয়ারম্যান, প্রকাশক ও সম্পাদক
দৈনিক সময়ের কন্ঠ