বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ৭ দিনে ১২ হাজার টাকার ঋণ, হাতে মাত্র ৭,২০০ টাকা! অনলাইন লোন অ্যাপের অতিরিক্ত চার্জে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন গ্রাহকরা
- আপডেট টাইম : ০১:৫০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / ২৯৮ ০০০ বার

দেশে অনলাইন ঋণ বা ডিজিটাল লোন অ্যাপের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত প্রসেসিং ফি, স্বল্পমেয়াদি ঋণ এবং অস্বাভাবিক পরিশোধের অভিযোগও বাড়ছে। বিভিন্ন ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার ঋণ অনুমোদন হলেও নানা ধরনের চার্জ কেটে হাতে অনেক কম টাকা দেওয়া হয়, অথচ কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় পুরো ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠ–এর হাতে আসা একটি ডকুমেন্ট ও স্ক্রিনশট অনুযায়ী, একটি অনলাইন লোন অ্যাপে ১২ হাজার টাকার ঋণের বিপরীতে গ্রাহকের হাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৭,২০০ টাকা। অথচ মাত্র ৭ দিনের মধ্যে ১১,৯০০ টাকা পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্ক্রিনশটে আরও দেখা যায়, ৪,৭০০ টাকা “Origination Fee” বা প্রসেসিং চার্জ হিসেবে কেটে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ ধরনের পদ্ধতিতে নামমাত্র সুদ দেখানো হলেও বাস্তবে বিভিন্ন ফি ও চার্জের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অত্যন্ত উচ্চ অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অনেকের দাবি, এতে কার্যকর ঋণ ব্যয় অত্যন্ত বেড়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ আর্থিক সংকটে পড়েন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঋণের শর্ত, সুদ, ফি ও অন্যান্য চার্জ সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে জানানো উচিত। গ্রাহকের কাছে প্রকৃত ঋণ ব্যয় স্পষ্ট না হলে তা ভোক্তা অধিকার ও আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকও গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রেখেছে।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
ভুক্তভোগীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে এসব অনলাইন ঋণ কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জনসচেতনতার বার্তা
দৈনিক সময়ের কণ্ঠ সকল নাগরিককে আহ্বান জানাচ্ছে—
কোনো অনলাইন ঋণ নেওয়ার আগে সুদ, ফি ও সকল শর্ত ভালোভাবে পড়ুন।
হাতে কত টাকা পাবেন এবং মোট কত টাকা ফেরত দিতে হবে, তা হিসাব করুন।
অতিরিক্ত বা অস্বচ্ছ চার্জের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থায় লিখিত অভিযোগ করুন।
অচেনা বা অনিয়ন্ত্রিত লোন অ্যাপ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য ভুক্তভোগীদের দেওয়া নথি ও স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।














