Dhaka ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পাদকীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক ঐক্য: বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ১১:১৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৫৭ ০০০ বার

বাংলাদেশ আজ এমন এক সময় অতিক্রম করছে, যখন অর্থনীতি ও রাজনীতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়, আবার শক্তিশালী অর্থনীতি ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং বৈদেশিক অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। জনগণ এখন সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করে এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি আস্থাশীল পরিবেশ গড়ে উঠবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক অবিশ্বাস, সংঘাত ও বিভাজন দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে, উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয় এবং জনগণও উপকৃত হয়।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ। তাই অর্থনৈতিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর, যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সংঘাত নয়; প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সহিংসতা নয়। একই সঙ্গে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে, যা হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, কর্মসংস্থানমুখী এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর।

জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সমন্বয় ঘটাতে পারলেই বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যেতে পারবে।

জাতীয় নিউজ

সম্পাদকীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক ঐক্য: বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট টাইম : ১১:১৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ আজ এমন এক সময় অতিক্রম করছে, যখন অর্থনীতি ও রাজনীতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়, আবার শক্তিশালী অর্থনীতি ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং বৈদেশিক অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। জনগণ এখন সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করে এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি আস্থাশীল পরিবেশ গড়ে উঠবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক অবিশ্বাস, সংঘাত ও বিভাজন দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে, উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয় এবং জনগণও উপকৃত হয়।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ। তাই অর্থনৈতিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর, যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সংঘাত নয়; প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সহিংসতা নয়। একই সঙ্গে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে, যা হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, কর্মসংস্থানমুখী এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর।

জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সমন্বয় ঘটাতে পারলেই বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যেতে পারবে।