Dhaka ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিসি অফিসে ৫৬ কর্মচারীর একযোগে বদলি সময়ের কণ্ঠের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর প্রশাসনে রদবদল, আলোচিত ব্যক্তির অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ১২:৩২:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৩৮ ০০০.০০.বার দেখেছেন

নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ডিসি অফিস ঘেরাও

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ৫৬ জন কর্মচারীকে একযোগে বদলির ঘটনায় প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, কথিত সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই বদলিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নেজারত শাখা থেকে জারি করা আদেশে ৬ জন দপ্তরি, ২৬ জন অফিস সহায়ক এবং ২৪ জন প্রসেস সার্ভারসহ মোট ৫৬ জনকে বদলি করা হয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর পূর্বাহ্নে তাঁদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বদলি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. রাশেদুল হক সজীব।

জানা গেছে, বদলিকৃত কর্মচারীদের কেউ কেউ দীর্ঘ ৮ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও উঠেছে।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের আগের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় দায়িত্ব পালনকারী কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রভাব নিয়ে এর আগেও দৈনিক সময়ের কণ্ঠে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

সেই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর আলোকে এখন প্রশ্ন উঠেছে—প্রশাসনের এই বড় ধরনের রদবদলে আগে আলোচনায় আসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরও কি বদলি হয়েছে, নাকি তিনি আগের অবস্থানেই বহাল রয়েছেন? তাঁর দায়িত্ব ও অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

শুধু কর্মচারীদের বদলি করলেই কি দীর্ঘদিনের কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতির চক্র ভাঙবে, নাকি এর পেছনে থাকা অভিযোগগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে—এমন প্রশ্নও উঠছে সচেতন মহলে।

নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. রাশেদুল হক সজীব জানিয়েছেন, তাঁর দুই বছরের কর্মকালীন সময়ে এটিই সবচেয়ে বড় বদলির আদেশ। প্রয়োজনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদও জানিয়েছেন, অনেক কর্মচারী দীর্ঘ পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে একই জায়গায় রয়েছেন। তাঁদের বদলানো প্রয়োজন ছিল।

জেলা প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভাষ্য, দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভাঙা এবং অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের প্রশ্ন

বদলির এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি উদ্যোগ হতে পারে। তবে জনগণের প্রত্যাশা, বদলি যেন কেবল কর্মস্থল পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেসব অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে দৈনিক সময়ের কণ্ঠের আগের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আলোচনায় আসা ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান, দায়িত্ব এবং বদলির তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে কি না, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

অনুসন্ধান চলমান।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য ও বদলির পূর্ণাঙ্গ তালিকা যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media