Dhaka ০৯:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

তোফায়েলের মৃত্যু ও আত্মবিস্মৃত জাতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ০৬:০৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / ৭৮ ০০০. ০০ বার

শহীদ আবদুল মালেক ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রাণরসায়ন (Biochemistry) বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন।

এসএসসি ও এইচএসসি-তে বোর্ড স্ট্যান্ড করার পর ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রাণরসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। সে বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

১৯৬৯ সালের ১২ অগাস্ট টিএসসি (TSC)-তে ‘শিক্ষার আদর্শিক ভিত্তি’ বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আবদুল মালেক সেখানে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে জোরালো বক্তব্য পেশ করেন এবং ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।

সে সেমিনারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ হামলায় আবদুল মালেক গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৬৯ সালের ১৫ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিল তোফায়েল আহমেদ। তার সাথে ছিল হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন গং। এ তো গেল ৭১ সালের আগের ঘটনা।

৭১ পরবর্তী কীর্তির কথা না লিখলে কি হয়?
ইন্ডিয়া ৭১ পরবর্তী বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শেখ মুজিবকে দিয়ে রক্ষীবাহিনী গঠন করে।

এ বাহিনীকে ট্রেনিং দেয়ার জন্য নিয়োগ করা হয় ইন্ডিয়ান ‘স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স’ (SFF)-এর প্রধান মেজর জেনারেল সুজন সিং উবান (Major General Sujan Singh Uban) কে। তিনি সাধারণত জেনারেল উবান নামে পরিচিত ছিলেন।

সেনাবাহিনীকে ছেড়া ইউনিফর্মে রেখে রক্ষীবাহিনীকে উন্নত ইউনিফর্ম ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা হয়। উদ্দেশ্য একটাই সেনাবাহিনীকে দূর্বল করে রক্ষীবাহিনী দিয়ে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা। এ রক্ষীবাহিনীকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতো ইন্ডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা R&AW.

এ রক্ষীবাহিনী বিনা বিচারে জাসদসহ ভিন্নমতাবলম্বী প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে খুন করেছে। এ বিষয়ে লেখালেখি করা বিশ্লেষকদের মতে খুন হওয়া অর্ধেক ছিল মুক্তিযোদ্ধা। তার মানে মুজিব আমলে রক্ষীবাহিনী প্রায় ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে খুন করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬,৪৮০ জন। ৭১ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে চারগুণের বেশি মুক্তিযোদ্ধা খুন হয়েছে মুজিব আমলে।

সে সময় জাসদ আছে বলে রক্ষীবাহিনী বিভিন্ন গ্রামে হানা দিয়ে পুরোগ্রাম ঘেরাও করে ধর্ষণের মত জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব কথা কেউ এখন বলে না। লেখালেখিও খুব একটা হয় না।

এ বাহিনীর প্রধান ছিল তোফায়েল আহমেদ। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট শেখ মুজিবের পতনের পর তোফায়েল আহমেদ নিরাপদে পালিয়ে যায়।

তোফায়েল আহমেদ গতকাল পরলোক গমন করেছেন। তোফায়েল আহমেদরা ধর্মনিরপেক্ষ। তাই তারা মারা গেলে দেহত্যাগ কিংবা পরলোক গমন বলা-ই যুক্তিসঙ্গত। তবুও তিনি যেহেতু নামধারী মুসলিম আমরা মহান আল্লাহর কাছে তার কৃতকর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেয়ার কথা বলতে পারি।

আশ্চর্যজনক বিষয় যে, এ লোককে কথিত মেইনস্ট্রিম মিডিয়া বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ উল্লেখ করে নিউজ করছে। কতোটা আত্মবিস্মৃত জাতি আমরা!

তাহলে রক্ষীবাহিনী যে ৬০ হাজার মানুষ খুন করেছে সে দায়ভার কার? ইন্ডিয়া, শেখ মুজিব না তোফায়েলের?

জাতীয় নিউজ

তোফায়েলের মৃত্যু ও আত্মবিস্মৃত জাতি!

আপডেট টাইম : ০৬:০৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

শহীদ আবদুল মালেক ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রাণরসায়ন (Biochemistry) বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন।

এসএসসি ও এইচএসসি-তে বোর্ড স্ট্যান্ড করার পর ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রাণরসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। সে বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

১৯৬৯ সালের ১২ অগাস্ট টিএসসি (TSC)-তে ‘শিক্ষার আদর্শিক ভিত্তি’ বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আবদুল মালেক সেখানে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে জোরালো বক্তব্য পেশ করেন এবং ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।

সে সেমিনারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ হামলায় আবদুল মালেক গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৬৯ সালের ১৫ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিল তোফায়েল আহমেদ। তার সাথে ছিল হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন গং। এ তো গেল ৭১ সালের আগের ঘটনা।

৭১ পরবর্তী কীর্তির কথা না লিখলে কি হয়?
ইন্ডিয়া ৭১ পরবর্তী বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শেখ মুজিবকে দিয়ে রক্ষীবাহিনী গঠন করে।

এ বাহিনীকে ট্রেনিং দেয়ার জন্য নিয়োগ করা হয় ইন্ডিয়ান ‘স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স’ (SFF)-এর প্রধান মেজর জেনারেল সুজন সিং উবান (Major General Sujan Singh Uban) কে। তিনি সাধারণত জেনারেল উবান নামে পরিচিত ছিলেন।

সেনাবাহিনীকে ছেড়া ইউনিফর্মে রেখে রক্ষীবাহিনীকে উন্নত ইউনিফর্ম ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা হয়। উদ্দেশ্য একটাই সেনাবাহিনীকে দূর্বল করে রক্ষীবাহিনী দিয়ে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা। এ রক্ষীবাহিনীকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতো ইন্ডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা R&AW.

এ রক্ষীবাহিনী বিনা বিচারে জাসদসহ ভিন্নমতাবলম্বী প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে খুন করেছে। এ বিষয়ে লেখালেখি করা বিশ্লেষকদের মতে খুন হওয়া অর্ধেক ছিল মুক্তিযোদ্ধা। তার মানে মুজিব আমলে রক্ষীবাহিনী প্রায় ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে খুন করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬,৪৮০ জন। ৭১ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে চারগুণের বেশি মুক্তিযোদ্ধা খুন হয়েছে মুজিব আমলে।

সে সময় জাসদ আছে বলে রক্ষীবাহিনী বিভিন্ন গ্রামে হানা দিয়ে পুরোগ্রাম ঘেরাও করে ধর্ষণের মত জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব কথা কেউ এখন বলে না। লেখালেখিও খুব একটা হয় না।

এ বাহিনীর প্রধান ছিল তোফায়েল আহমেদ। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট শেখ মুজিবের পতনের পর তোফায়েল আহমেদ নিরাপদে পালিয়ে যায়।

তোফায়েল আহমেদ গতকাল পরলোক গমন করেছেন। তোফায়েল আহমেদরা ধর্মনিরপেক্ষ। তাই তারা মারা গেলে দেহত্যাগ কিংবা পরলোক গমন বলা-ই যুক্তিসঙ্গত। তবুও তিনি যেহেতু নামধারী মুসলিম আমরা মহান আল্লাহর কাছে তার কৃতকর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেয়ার কথা বলতে পারি।

আশ্চর্যজনক বিষয় যে, এ লোককে কথিত মেইনস্ট্রিম মিডিয়া বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ উল্লেখ করে নিউজ করছে। কতোটা আত্মবিস্মৃত জাতি আমরা!

তাহলে রক্ষীবাহিনী যে ৬০ হাজার মানুষ খুন করেছে সে দায়ভার কার? ইন্ডিয়া, শেখ মুজিব না তোফায়েলের?