Dhaka ১২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বাণিজ্যের গতিশীলতা আর অর্থনীতির ভিত: কোন পথে হাঁটছি আমরা?

সময়ের কন্ঠ সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : ০৯:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / ১৩ ০০০. ০০ বার

দেশের অর্থনীতি এখন একটা সন্ধিক্ষণে। একদিকে বৈশ্বিক মন্দা, ডলার সংকট, রেমিট্যান্সের ওঠানামা। অন্যদিকে নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় বাড়ানোর চাপ। এই বাস্তবতায় বাণিজ্য ও অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

*বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ:*
বর্তমানে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য তৈরি পোশাকের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। বৈচিত্র্য নেই। ডলারের দাম বাড়ায় আমদানি খরচ বেড়েছে, ফলে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ীরা ব্যাংক লোন পাচ্ছেন না, সুদের হার বেশি। ফলে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, ক্রয়ক্ষমতা কমছে। এটা বাণিজ্যের জন্য বড় বাধা।

*অর্থনীতির ভিত:*
অর্থনীতির মূল ভিত হলো কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ভারসাম্য। কিন্তু কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নেই, শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি, আর সেবা খাতে দক্ষ জনবলের অভাব। কালো টাকা সাদা করার বারবার সুযোগ দিলে যারা নিয়মিত কর দেয় তারা নিরুৎসাহিত হয়। এতে অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়।

*সমাধান কোথায়?*
1. *রপ্তানি বৈচিত্র্য*: শুধু পোশাক না, আইসিটি, চামড়া, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি বাড়াতে হবে। নতুন বাজার খুঁজতে হবে।
2. *ব্যবসা-বান্ধব নীতি*: ব্যাংক লোন সহজ করতে হবে। হয়রানি কমাতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা তহবিল দরকার।
3. *দুর্নীতি দমন*: বাণিজ্যে স্বচ্ছতা না থাকলে বিনিয়োগ আসবে না। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করলে ব্যবসায়ীরা সাহস পাবে।
4. *কর ন্যায়বিচার*: কালো টাকা সাদা করার শর্টকাট না খুঁজে, কর ফাঁকি বন্ধ করে প্রকৃত করদাতাদের সুরক্ষা দিতে হবে।

*শেষ কথা:*
অর্থনীতি কোনো জাদু না। এটা মানুষের শ্রম, মেধা আর নীতির সমষ্টি। বাণিজ্য যদি স্বাধীনভাবে বাড়তে না পারে, অর্থনীতির চাকা সচল হবে না। সরকার, ব্যবসায়ী আর জনগণ – তিন পক্ষকে মিলে কাজ করতে হবে। শুধু রাজস্ব বাড়ানোর টার্গেট না, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর টার্গেট করতে হবে। তাহলেই টেকসই অর্থনীতি গড়ে উঠবে।

“দৈনিক সময়ের কন্ঠ” মনে করে, অর্থনীতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাধারণ ব্যবসায়ী, কৃষক আর ভোক্তার কথা শুনতে হবে। নীতি যদি জনবান্ধব হয়, বাণিজ্য নিজ গতিতে এগিয়ে যাবে।

জাতীয় নিউজ

বাণিজ্যের গতিশীলতা আর অর্থনীতির ভিত: কোন পথে হাঁটছি আমরা?

আপডেট টাইম : ০৯:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

দেশের অর্থনীতি এখন একটা সন্ধিক্ষণে। একদিকে বৈশ্বিক মন্দা, ডলার সংকট, রেমিট্যান্সের ওঠানামা। অন্যদিকে নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় বাড়ানোর চাপ। এই বাস্তবতায় বাণিজ্য ও অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

*বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ:*
বর্তমানে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য তৈরি পোশাকের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। বৈচিত্র্য নেই। ডলারের দাম বাড়ায় আমদানি খরচ বেড়েছে, ফলে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ীরা ব্যাংক লোন পাচ্ছেন না, সুদের হার বেশি। ফলে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, ক্রয়ক্ষমতা কমছে। এটা বাণিজ্যের জন্য বড় বাধা।

*অর্থনীতির ভিত:*
অর্থনীতির মূল ভিত হলো কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ভারসাম্য। কিন্তু কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নেই, শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি, আর সেবা খাতে দক্ষ জনবলের অভাব। কালো টাকা সাদা করার বারবার সুযোগ দিলে যারা নিয়মিত কর দেয় তারা নিরুৎসাহিত হয়। এতে অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়।

*সমাধান কোথায়?*
1. *রপ্তানি বৈচিত্র্য*: শুধু পোশাক না, আইসিটি, চামড়া, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি বাড়াতে হবে। নতুন বাজার খুঁজতে হবে।
2. *ব্যবসা-বান্ধব নীতি*: ব্যাংক লোন সহজ করতে হবে। হয়রানি কমাতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা তহবিল দরকার।
3. *দুর্নীতি দমন*: বাণিজ্যে স্বচ্ছতা না থাকলে বিনিয়োগ আসবে না। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করলে ব্যবসায়ীরা সাহস পাবে।
4. *কর ন্যায়বিচার*: কালো টাকা সাদা করার শর্টকাট না খুঁজে, কর ফাঁকি বন্ধ করে প্রকৃত করদাতাদের সুরক্ষা দিতে হবে।

*শেষ কথা:*
অর্থনীতি কোনো জাদু না। এটা মানুষের শ্রম, মেধা আর নীতির সমষ্টি। বাণিজ্য যদি স্বাধীনভাবে বাড়তে না পারে, অর্থনীতির চাকা সচল হবে না। সরকার, ব্যবসায়ী আর জনগণ – তিন পক্ষকে মিলে কাজ করতে হবে। শুধু রাজস্ব বাড়ানোর টার্গেট না, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর টার্গেট করতে হবে। তাহলেই টেকসই অর্থনীতি গড়ে উঠবে।

“দৈনিক সময়ের কন্ঠ” মনে করে, অর্থনীতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাধারণ ব্যবসায়ী, কৃষক আর ভোক্তার কথা শুনতে হবে। নীতি যদি জনবান্ধব হয়, বাণিজ্য নিজ গতিতে এগিয়ে যাবে।