Dhaka ১২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

কালিয়াকৈরে পানি পানে দুই শতাধিক গার্মেন্টস শ্রমিক অসুস্থ, একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

মোঃ ফরিদ আহমেদ ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : ০৯:০৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / ১০ ০০০. ০০ বার

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানায় সাপ্লাইয়ের পানি পান করে দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, সকালে কারখানায় প্রবেশ করে কাজ শুরুর কিছুক্ষণ পর শ্রমিকরা কারখানার সাপ্লাই থেকে পানি পান করেন। এর কিছুক্ষণ পর চতুর্থ তলায় কয়েকজন শ্রমিক হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান এবং বমি করতে থাকেন। ধীরে ধীরে কারখানার অন্যান্য ফ্লোরের শ্রমিকদের মধ্যেও একই উপসর্গ দেখা দেয়।

অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনেককেই কারখানার ভেতরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী শ্রমিক।

কারখানার শ্রমিক জাহিদ, নুরুল ইসলাম ও সাদিয়া আক্তার জানান, তারা প্রতিদিনই কারখানার সাপ্লাইয়ের পানি পান করেন। কিন্তু আজ পানি পানের কিছুক্ষণ পরেই একে একে দুই শতাধিক শ্রমিক মাথা ঘুরে ফ্লোরে পড়ে যান, অনেকে বমি করেন, কেউ কেউ অচেতন হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে গাজীপুর সিভিল সার্জন ডাঃ মামুনুর রহমান কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।

এদিকে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফখরুল হোসাইন হাসপাতালে এসে রোগীদের খোঁজখবর নেন।

কালিয়াকৈর থানার সার্কেল এএসপি মোঃ শফিকুল ইসলাম, ওসি শহিদুল ইসলামসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় বহু শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে জায়গা হচ্ছে না। একের পর এক রোগী আসছে। আমরা যথাক্রমে তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি।

পরবর্তীতে দেখা গেছে, অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে গেছে।

পানি দূষণের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় নিউজ

কালিয়াকৈরে পানি পানে দুই শতাধিক গার্মেন্টস শ্রমিক অসুস্থ, একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

আপডেট টাইম : ০৯:০৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানায় সাপ্লাইয়ের পানি পান করে দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, সকালে কারখানায় প্রবেশ করে কাজ শুরুর কিছুক্ষণ পর শ্রমিকরা কারখানার সাপ্লাই থেকে পানি পান করেন। এর কিছুক্ষণ পর চতুর্থ তলায় কয়েকজন শ্রমিক হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান এবং বমি করতে থাকেন। ধীরে ধীরে কারখানার অন্যান্য ফ্লোরের শ্রমিকদের মধ্যেও একই উপসর্গ দেখা দেয়।

অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনেককেই কারখানার ভেতরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী শ্রমিক।

কারখানার শ্রমিক জাহিদ, নুরুল ইসলাম ও সাদিয়া আক্তার জানান, তারা প্রতিদিনই কারখানার সাপ্লাইয়ের পানি পান করেন। কিন্তু আজ পানি পানের কিছুক্ষণ পরেই একে একে দুই শতাধিক শ্রমিক মাথা ঘুরে ফ্লোরে পড়ে যান, অনেকে বমি করেন, কেউ কেউ অচেতন হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে গাজীপুর সিভিল সার্জন ডাঃ মামুনুর রহমান কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।

এদিকে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফখরুল হোসাইন হাসপাতালে এসে রোগীদের খোঁজখবর নেন।

কালিয়াকৈর থানার সার্কেল এএসপি মোঃ শফিকুল ইসলাম, ওসি শহিদুল ইসলামসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় বহু শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে জায়গা হচ্ছে না। একের পর এক রোগী আসছে। আমরা যথাক্রমে তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি।

পরবর্তীতে দেখা গেছে, অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে গেছে।

পানি দূষণের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।