Dhaka ০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রাত ১১ টা। টাউনহল মোড় বৃষ্টি পড়ছে

সময়ের কন্ঠ সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : ০১:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / ৪০ ০০০. ০০ বার

ফুটপাতে ভিজছে একজন ঘুমন্ত মহিলা। পাশে রাখা বাটিতে ভিজছে কিছু টাকা। ভিজছে দুটি শিশুও। ছোটটির বয়স আনুমানিক এক, বড়টির চারের কাছাকাছি। মহিলার মুখ ওড়না দিয়ে ঢাকা। বড় বাচ্চাটি তাকে ধাক্কা দিচ্ছে আর মা মা বলে ডাকছে। আর ছোটটি গভীর ঘুমে। বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে তার শরীর, তবুও ঘুম ভাঙছে না। বড় বাচ্চাটির ডাকও যেন মহিলার কানে যাচ্ছে না।

এসব ভিক্ষাবৃত্তির কৌশল ভেবে আমি আমি চিল্লায়ে ডাকলাম। কিন্তু মহিলার কোনো সাড়াশব্দ নেই। আমার সাথে আমার স্ত্রী ছিল। ও মহিলার গায়ে ধাক্কা দিয়ে ডাক দিতেই সে হুড়মুড় করে উঠে বসল। টান দিয়ে ছোট বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে ওড়না দিয়ে শরীর মুছে দিচ্ছে আর বলছে, “কখন বৃষ্টি আসলো! আমি বুঝি নাই। আমার শরীরটা খারাপ। কোন সময় যে ঘুমিয়ে পড়ছি জানি না।”

আমি মহিলাকে রাস্তার বিপরীতে একটি বন্ধ দোকানের বারান্দা দেখিয়ে ওখানে যেতে বললাম। সে তার বাচ্চাদের নিয়ে দ্রুত ওখানে গেল। বৃষ্টি থাকায় আমরাও ওখানে গিয়ে দাঁড়ালাম।

কথা প্রসঙ্গে আমার স্ত্রী বড় বাচ্চাটিকে দেখিয়ে মহিলাকে বলল, “একে আমাকে দিয়ে দেন। ও আমার কাছে অনেক ভালো থাকবে। দিবেন?”
মহিলা সাথে সাথে জবাব দিল, “না না! আমি ওকে পড়াব। ওর বাবার মতো ও আমাকে ছেড়ে যাবে না।”

আমার চোখদুটো ভিজে উঠেছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললাম, “হে পরম করুণাময়, এদেরকে দেখিয়ে আমাদেরকে তুমি যা শেখাতে চাও তা আমরা কয়জনে শিখি? তুমি তাদেরকে ভালো রেখো।”
©️ ভয়েস অফ পেয়ার

জাতীয় নিউজ

রাত ১১ টা। টাউনহল মোড় বৃষ্টি পড়ছে

আপডেট টাইম : ০১:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ফুটপাতে ভিজছে একজন ঘুমন্ত মহিলা। পাশে রাখা বাটিতে ভিজছে কিছু টাকা। ভিজছে দুটি শিশুও। ছোটটির বয়স আনুমানিক এক, বড়টির চারের কাছাকাছি। মহিলার মুখ ওড়না দিয়ে ঢাকা। বড় বাচ্চাটি তাকে ধাক্কা দিচ্ছে আর মা মা বলে ডাকছে। আর ছোটটি গভীর ঘুমে। বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে তার শরীর, তবুও ঘুম ভাঙছে না। বড় বাচ্চাটির ডাকও যেন মহিলার কানে যাচ্ছে না।

এসব ভিক্ষাবৃত্তির কৌশল ভেবে আমি আমি চিল্লায়ে ডাকলাম। কিন্তু মহিলার কোনো সাড়াশব্দ নেই। আমার সাথে আমার স্ত্রী ছিল। ও মহিলার গায়ে ধাক্কা দিয়ে ডাক দিতেই সে হুড়মুড় করে উঠে বসল। টান দিয়ে ছোট বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে ওড়না দিয়ে শরীর মুছে দিচ্ছে আর বলছে, “কখন বৃষ্টি আসলো! আমি বুঝি নাই। আমার শরীরটা খারাপ। কোন সময় যে ঘুমিয়ে পড়ছি জানি না।”

আমি মহিলাকে রাস্তার বিপরীতে একটি বন্ধ দোকানের বারান্দা দেখিয়ে ওখানে যেতে বললাম। সে তার বাচ্চাদের নিয়ে দ্রুত ওখানে গেল। বৃষ্টি থাকায় আমরাও ওখানে গিয়ে দাঁড়ালাম।

কথা প্রসঙ্গে আমার স্ত্রী বড় বাচ্চাটিকে দেখিয়ে মহিলাকে বলল, “একে আমাকে দিয়ে দেন। ও আমার কাছে অনেক ভালো থাকবে। দিবেন?”
মহিলা সাথে সাথে জবাব দিল, “না না! আমি ওকে পড়াব। ওর বাবার মতো ও আমাকে ছেড়ে যাবে না।”

আমার চোখদুটো ভিজে উঠেছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললাম, “হে পরম করুণাময়, এদেরকে দেখিয়ে আমাদেরকে তুমি যা শেখাতে চাও তা আমরা কয়জনে শিখি? তুমি তাদেরকে ভালো রেখো।”
©️ ভয়েস অফ পেয়ার