Dhaka ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সভাপতি পদ অনুমোদনকে কেন্দ্র করে নবীনগরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, চাঁদা দাবি ও অপহরণচেষ্টার অভিযোগে নতুন বিতর্ক

নয়ন আহমেদ বকুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : ০৯:২৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • / ৫৭ ০০০. ০০ বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদ অনুমোদনকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় চাঁদা দাবি, অপহরণচেষ্টা এবং মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৩১ মে) বিকেল ৪টার দিকে শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড় এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নবীনগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দুই পক্ষের নেতাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার দৃশ্য দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হোসেন আহাম্মদের মৃত্যু হয় প্রায় দেড় বছর আগে। এরপর সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে গত বছরের ১ জুন বিএনপি নেতা ও জেলা যুবদলের সদস্য মাহাবুবুর রহমানকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে একটি দলীয় চিঠিতে স্বাক্ষর করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।

তবে দীর্ঘ এক বছর পরও পদটি চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। শনিবার বিকেলে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে মাহাবুবুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের মধ্যে এ বিষয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

পরে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনূর রশীদের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার পর মাহাবুবুর রহমান অভিযোগ করেন, “এক বছর আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান আমাকে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেন। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম তার স্বাক্ষরের জন্য আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি এক বছর ধরে পদটির অনুমোদন আটকে রাখেন।”

তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নাজমুল করিম। তিনি বলেন, “পাঁচ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দলীয় চিঠিতে সভাপতির স্বাক্ষর থাকলেও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় আমি অনুমোদন দিইনি।”

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “শনিবার বিকেলে মাহাবুবুর রহমান ও তার সহযোগীরা আমাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করেন।”

মামলা দায়েরের বিষয়েও অভিযোগ তুলে নাজমুল করিম বলেন, রাতে থানায় গিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ করেনি। পরে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

তবে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী এ অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “মামলা না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি হামলার ঘটনা বাদ দিয়ে অপহরণের অভিযোগে মামলা করতে চেয়েছিলেন। এছাড়া যাকে বাদী করা হয়েছে, তিনি থানায় উপস্থিত ছিলেন না। বাদীর উপস্থিতি ছাড়া মামলা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কেউ আমাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মামলা গ্রহণ বা না গ্রহণ করা সম্পূর্ণ পুলিশের বিষয়। এতে আমার কোনো হস্তক্ষেপ নেই। শিবপুর ইউনিয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত সাংগঠনিক বিধি মেনেই নেওয়া হয়েছিল। দলের দুঃসময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদেরই মূল্যায়ন করা হয়েছে।”

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে নবীনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সাংগঠনিক তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আরও প্রকট হতে পারে।

জাতীয় নিউজ

সভাপতি পদ অনুমোদনকে কেন্দ্র করে নবীনগরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, চাঁদা দাবি ও অপহরণচেষ্টার অভিযোগে নতুন বিতর্ক

আপডেট টাইম : ০৯:২৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদ অনুমোদনকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় চাঁদা দাবি, অপহরণচেষ্টা এবং মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৩১ মে) বিকেল ৪টার দিকে শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড় এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নবীনগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দুই পক্ষের নেতাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার দৃশ্য দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হোসেন আহাম্মদের মৃত্যু হয় প্রায় দেড় বছর আগে। এরপর সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে গত বছরের ১ জুন বিএনপি নেতা ও জেলা যুবদলের সদস্য মাহাবুবুর রহমানকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে একটি দলীয় চিঠিতে স্বাক্ষর করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।

তবে দীর্ঘ এক বছর পরও পদটি চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। শনিবার বিকেলে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে মাহাবুবুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের মধ্যে এ বিষয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

পরে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনূর রশীদের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার পর মাহাবুবুর রহমান অভিযোগ করেন, “এক বছর আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান আমাকে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেন। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম তার স্বাক্ষরের জন্য আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি এক বছর ধরে পদটির অনুমোদন আটকে রাখেন।”

তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নাজমুল করিম। তিনি বলেন, “পাঁচ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দলীয় চিঠিতে সভাপতির স্বাক্ষর থাকলেও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় আমি অনুমোদন দিইনি।”

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “শনিবার বিকেলে মাহাবুবুর রহমান ও তার সহযোগীরা আমাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করেন।”

মামলা দায়েরের বিষয়েও অভিযোগ তুলে নাজমুল করিম বলেন, রাতে থানায় গিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ করেনি। পরে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

তবে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী এ অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “মামলা না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি হামলার ঘটনা বাদ দিয়ে অপহরণের অভিযোগে মামলা করতে চেয়েছিলেন। এছাড়া যাকে বাদী করা হয়েছে, তিনি থানায় উপস্থিত ছিলেন না। বাদীর উপস্থিতি ছাড়া মামলা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কেউ আমাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মামলা গ্রহণ বা না গ্রহণ করা সম্পূর্ণ পুলিশের বিষয়। এতে আমার কোনো হস্তক্ষেপ নেই। শিবপুর ইউনিয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত সাংগঠনিক বিধি মেনেই নেওয়া হয়েছিল। দলের দুঃসময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদেরই মূল্যায়ন করা হয়েছে।”

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে নবীনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সাংগঠনিক তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আরও প্রকট হতে পারে।