Dhaka ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

*সম্পাদকীয়* সংসদীয় ভাষা ও বক্তব্য: সহিষ্ণুতা কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ০৯:০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / ৭৭ ০০০. ০০ বার

জাতীয় সংসদ গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র। এখানে তর্ক হবে, সমালোচনা হবে, যুক্তি-পাল্টা যুক্তি হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে ব্যবহৃত কিছু ভাষা ও বক্তব্য নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

একটি পক্ষের অভিযোগ, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আচরণ ও বক্তব্য “ক্ষমতাসীন দলের পুরনো কায়দা” মনে করিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের অভিযোগ, বিরোধী দলের বক্তব্য “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত” দিচ্ছে। সম্প্রতি একজন সংসদ সদস্যের “ইসলাম ইসলাম নয়” – এমন মন্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় চলছে।

“দৈনিক সময়ের কন্ঠ” মনে করে, ৩টা বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ:

১. *সংসদীয় শিষ্টাচার*: সংবিধান ও সংসদের রীতিনীতি অনুযায়ী, যে কোনো বক্তব্য হতে হবে যুক্তিনির্ভর ও শালীন। ব্যক্তি আক্রমণ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, বা “তুমিও তো…” ধরনের পাল্টা-যুক্তি সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে। জনগণ ট্যাক্স দিয়ে সংসদ চালায় – সেখানে নাটক দেখতে চায় না, সমাধান চায়।

২.*বক্তব্যের ব্যাখ্যা*: “ইসলাম ইসলাম নয়” – এই বাক্যের আক্ষরিক অর্থ ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতে পারে। বক্তা কি ধর্মকে অস্বীকার করেছেন, নাকি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে “ইসলামের নামে ভণ্ডামি” বোঝাতে চেয়েছেন – তা স্পষ্ট করা দরকার। অস্পষ্ট বক্তব্য ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দেয়।

৩.*প্রতিক্রিয়ার ভারসাম্য*: সমালোচনা করার অধিকার যেমন আছে, তেমনি পাল্টা সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতাও থাকতে হবে। এক পক্ষের বক্তব্যকে “আওয়ামী লীগের মতো” ট্যাগ দেওয়া, আরেক পক্ষের বক্তব্যকে “ধর্মদ্রোহী” ট্যাগ দেওয়া – দুইটাই রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ায়। দেশের মানুষ চায় সমাধান, চায় না বিভাজন।

সংসদে আলোচনা হোক দ্রব্যমূল্য নিয়ে, হোক ব্যাংক খাতের অনিয়ম নিয়ে, হোক সাংবাদিক নির্যাতন নিয়ে। ধর্ম, ইতিহাস, ব্যক্তি – এগুলো নিয়ে খোঁচাখুঁচি করলে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্পিকারের প্রতি আহ্বান, বিতর্কিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে দ্রুত “ব্যাখ্যা চাওয়া” ও “দুঃখপ্রকাশের সুযোগ” দিন। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান, কর্মী-সমর্থকদের উস্কে না দিয়ে যুক্তি দিয়ে জবাব দিন।

শেষ কথা: সংসদ জনগণের মঞ্চ। সেই মঞ্চের ভাষা যদি বিষাক্ত হয়, তবে গণতন্ত্রও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

জাতীয় নিউজ

*সম্পাদকীয়* সংসদীয় ভাষা ও বক্তব্য: সহিষ্ণুতা কোথায়?

আপডেট টাইম : ০৯:০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদ গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র। এখানে তর্ক হবে, সমালোচনা হবে, যুক্তি-পাল্টা যুক্তি হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে ব্যবহৃত কিছু ভাষা ও বক্তব্য নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

একটি পক্ষের অভিযোগ, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আচরণ ও বক্তব্য “ক্ষমতাসীন দলের পুরনো কায়দা” মনে করিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের অভিযোগ, বিরোধী দলের বক্তব্য “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত” দিচ্ছে। সম্প্রতি একজন সংসদ সদস্যের “ইসলাম ইসলাম নয়” – এমন মন্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় চলছে।

“দৈনিক সময়ের কন্ঠ” মনে করে, ৩টা বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ:

১. *সংসদীয় শিষ্টাচার*: সংবিধান ও সংসদের রীতিনীতি অনুযায়ী, যে কোনো বক্তব্য হতে হবে যুক্তিনির্ভর ও শালীন। ব্যক্তি আক্রমণ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, বা “তুমিও তো…” ধরনের পাল্টা-যুক্তি সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে। জনগণ ট্যাক্স দিয়ে সংসদ চালায় – সেখানে নাটক দেখতে চায় না, সমাধান চায়।

২.*বক্তব্যের ব্যাখ্যা*: “ইসলাম ইসলাম নয়” – এই বাক্যের আক্ষরিক অর্থ ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতে পারে। বক্তা কি ধর্মকে অস্বীকার করেছেন, নাকি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে “ইসলামের নামে ভণ্ডামি” বোঝাতে চেয়েছেন – তা স্পষ্ট করা দরকার। অস্পষ্ট বক্তব্য ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দেয়।

৩.*প্রতিক্রিয়ার ভারসাম্য*: সমালোচনা করার অধিকার যেমন আছে, তেমনি পাল্টা সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতাও থাকতে হবে। এক পক্ষের বক্তব্যকে “আওয়ামী লীগের মতো” ট্যাগ দেওয়া, আরেক পক্ষের বক্তব্যকে “ধর্মদ্রোহী” ট্যাগ দেওয়া – দুইটাই রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ায়। দেশের মানুষ চায় সমাধান, চায় না বিভাজন।

সংসদে আলোচনা হোক দ্রব্যমূল্য নিয়ে, হোক ব্যাংক খাতের অনিয়ম নিয়ে, হোক সাংবাদিক নির্যাতন নিয়ে। ধর্ম, ইতিহাস, ব্যক্তি – এগুলো নিয়ে খোঁচাখুঁচি করলে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্পিকারের প্রতি আহ্বান, বিতর্কিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে দ্রুত “ব্যাখ্যা চাওয়া” ও “দুঃখপ্রকাশের সুযোগ” দিন। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান, কর্মী-সমর্থকদের উস্কে না দিয়ে যুক্তি দিয়ে জবাব দিন।

শেষ কথা: সংসদ জনগণের মঞ্চ। সেই মঞ্চের ভাষা যদি বিষাক্ত হয়, তবে গণতন্ত্রও অসুস্থ হয়ে পড়ে।