Dhaka ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: লিখিত আবেদনেও নীরব প্রশাসন, ক্ষোভ স্থানীয়দের?

মোঃ রানা বিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট টাইম : ১০:০৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / ৩২৮ ০০০ বার

দিনাজপুর,বিরামপুর উপজেলার শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়া পদে নিয়োগে অনিয়ম ও জাল শিক্ষাসনদ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,প্রায় ৩-৪ মাস আগে থেকেই বিভিন্ন দপ্তরে এ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশ পেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান আয়া পদে কর্মরত লাকি আক্তার নামে এক নারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভুয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষাসনদ ব্যবহার করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।অভিযোগ কারীদের মতে,তিনি ওই বিদ্যালয়ের কোনো সময়ের ছাত্রী ছিলেন না। তার জন্মস্থান বিরামপুরের ইসলামপাড়া এলাকায় এবং দুই বছর আগে দিওড় ইউনিয়নের মানুষমুড়া গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ,বিগত সরকারের প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির সহায়তায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই শিক্ষাসনদ ব্যবহার করে আয়া পদে চাকরি নেওয়া হয়। অষ্টম শ্রেণির সনদ স্বাক্ষর করেছিল ছিল প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান মাস্টার,তিনি এখনো প্রধানের দায়িত্বে বিদ্যমান রয়েছেন।
এ বিষয়ে দিওড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং দিনাজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী মো. রফিকুল ইসলামের দাবি,“আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনও বিদ্যালয়ে চাকরি করে যাচ্ছেন।”
এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তারা মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হলে দুর্নীতি আরও উৎসাহিত হবে এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উক্ত বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী। তবে স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় নিউজ

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: লিখিত আবেদনেও নীরব প্রশাসন, ক্ষোভ স্থানীয়দের?

আপডেট টাইম : ১০:০৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুর,বিরামপুর উপজেলার শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়া পদে নিয়োগে অনিয়ম ও জাল শিক্ষাসনদ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,প্রায় ৩-৪ মাস আগে থেকেই বিভিন্ন দপ্তরে এ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশ পেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান আয়া পদে কর্মরত লাকি আক্তার নামে এক নারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভুয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষাসনদ ব্যবহার করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।অভিযোগ কারীদের মতে,তিনি ওই বিদ্যালয়ের কোনো সময়ের ছাত্রী ছিলেন না। তার জন্মস্থান বিরামপুরের ইসলামপাড়া এলাকায় এবং দুই বছর আগে দিওড় ইউনিয়নের মানুষমুড়া গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ,বিগত সরকারের প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির সহায়তায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই শিক্ষাসনদ ব্যবহার করে আয়া পদে চাকরি নেওয়া হয়। অষ্টম শ্রেণির সনদ স্বাক্ষর করেছিল ছিল প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান মাস্টার,তিনি এখনো প্রধানের দায়িত্বে বিদ্যমান রয়েছেন।
এ বিষয়ে দিওড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং দিনাজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী মো. রফিকুল ইসলামের দাবি,“আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনও বিদ্যালয়ে চাকরি করে যাচ্ছেন।”
এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তারা মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হলে দুর্নীতি আরও উৎসাহিত হবে এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উক্ত বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী। তবে স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।