Dhaka ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশুদ্ধ পানি সংকটে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল, রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ

মো গোলাম রব্বানী, দৈনিক সময়ের কন্ঠ,সদর প্রতিনিধি ঠাকুরগাও॥
  • আপডেট টাইম : ০৮:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৪৫ ০০০ বার

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালের নলকূপগুলি বিকল হওয়ায় চরম আকার ধারন করেছে সুপেয় বিশুদ্ধ পানির সংকট। বিশুদ্ধ পানির এ সংকটে দুর্ভোগ বেড়েছে হাসপাতালের রোগীদের। এতে হাসপাতালের ভর্তি প্রায় ৫ শতাধিক রোগীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন রোগীর স্বজনরা। বাধ্য হয়েই হাসপাতালের বাইরে গিয়ে অনেক দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে তাদের। বিশুদ্ধ পানি সংকটের কারণে রাতের বেলা অনেক রোগীকে বাথরুমের ট্যাপ থেকে নোংরা পানি পান করতে হচ্ছে।

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে খুব দ্রুতই সমাধান হবে এ সমস্যার।

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সদর হাসপাতালে প্রায় ৪/৫ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। আর প্রায় ৬ থেকে ৮ শতাধিক রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া রোগী ও স্বজনদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে হাসপাতালে রয়েছে ৪/৫ টি নলকূপ। যাদের কোনটির হাতল নেই আবার কোনটির নেই নাট বল্টু। কোনটির আবার নলকূপের বোরিং পাইপ থাকলেও, নেই নলকুপের মূল অংশই।

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নলকূপগুলোর এমন বেহাল দশা হওয়ায় রোগী ও স্বজনরা তাই নির্ভরশীল ছিলেন হাসপাতালের মূল ফটকের দু ধারের ফুটপাতের ছোট্ট হোটেল ও খাবার দোকানগুলির ওপর। সেসব দোকান ও হোটেলর নলকূপের পানিই ছিলো রোগী ও তাদের স্বজনদের সুপেয় পানির একমাত্র উৎস। তবে গত দু সপ্তাহ আগে পৌরসভার অভিযানে হাসপাতালের মূল ফটকের দুধারের সেসব দোকান ও হোটেলগুলি উচ্ছেদ করা হলে নষ্ট হয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের সরবরাহের বিশুদ্ধ সে পানির উৎস।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে গাইনি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আসিয়া নামের এক রোগীর স্বজন জানান, তিনি রোগী নিয়ে এসেছেন ৫ দিন আগে। প্রতিদিনই তিনি তার রোগীর জন্য ওষুধ ও আরো ২ স্বজনের জন্য খাবার সরবরাহ করেন। এতে তার কষ্ট না হলেও বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবরাহের জন্য তাকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। প্রতিদিনই তাকে প্রায় ২শ টাকার পানি কিনতে হচ্ছে।

মাইনুল ইসলাম নামের আরেক রোগীর স্বজন জানান, আমার ৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে দুদিন হলো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতালের নলকূপ নষ্ট থাকায় রাতে পানি সংগ্রহ করতে পারিনা। ভোরে হাসপাতালের বাইরে অনেক দূর থেকে পানি আনি। এভাবে সকল রোগীই পানি সংকটে রয়েছেন বলে তিনি জানান।
অন্যান্য রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালের পাইপ লাইনে যে পানি আসছে, তাতে ময়লা ও পোকা থাকায় তা পানের অযোগ্য। তবে, সে পানি দিয়ে ধোয়া-মোছার কাজটি করা যায় কোনরকমে।

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ জামান জুয়েল জানান, খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান আমরা করে ফেলবো। ইতোমধ্যেই শিশু ওয়ার্ডের সামনের নলকূপটি মেরামতের ফলে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে । বাকি গুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবহারের যোগ্য করে তুললে রোগী ও স্বজনদের সুবিধা হবে।

জাতীয় নিউজ

বিশুদ্ধ পানি সংকটে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল, রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ

আপডেট টাইম : ০৮:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালের নলকূপগুলি বিকল হওয়ায় চরম আকার ধারন করেছে সুপেয় বিশুদ্ধ পানির সংকট। বিশুদ্ধ পানির এ সংকটে দুর্ভোগ বেড়েছে হাসপাতালের রোগীদের। এতে হাসপাতালের ভর্তি প্রায় ৫ শতাধিক রোগীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন রোগীর স্বজনরা। বাধ্য হয়েই হাসপাতালের বাইরে গিয়ে অনেক দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে তাদের। বিশুদ্ধ পানি সংকটের কারণে রাতের বেলা অনেক রোগীকে বাথরুমের ট্যাপ থেকে নোংরা পানি পান করতে হচ্ছে।

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে খুব দ্রুতই সমাধান হবে এ সমস্যার।

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সদর হাসপাতালে প্রায় ৪/৫ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। আর প্রায় ৬ থেকে ৮ শতাধিক রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া রোগী ও স্বজনদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে হাসপাতালে রয়েছে ৪/৫ টি নলকূপ। যাদের কোনটির হাতল নেই আবার কোনটির নেই নাট বল্টু। কোনটির আবার নলকূপের বোরিং পাইপ থাকলেও, নেই নলকুপের মূল অংশই।

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নলকূপগুলোর এমন বেহাল দশা হওয়ায় রোগী ও স্বজনরা তাই নির্ভরশীল ছিলেন হাসপাতালের মূল ফটকের দু ধারের ফুটপাতের ছোট্ট হোটেল ও খাবার দোকানগুলির ওপর। সেসব দোকান ও হোটেলর নলকূপের পানিই ছিলো রোগী ও তাদের স্বজনদের সুপেয় পানির একমাত্র উৎস। তবে গত দু সপ্তাহ আগে পৌরসভার অভিযানে হাসপাতালের মূল ফটকের দুধারের সেসব দোকান ও হোটেলগুলি উচ্ছেদ করা হলে নষ্ট হয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের সরবরাহের বিশুদ্ধ সে পানির উৎস।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে গাইনি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আসিয়া নামের এক রোগীর স্বজন জানান, তিনি রোগী নিয়ে এসেছেন ৫ দিন আগে। প্রতিদিনই তিনি তার রোগীর জন্য ওষুধ ও আরো ২ স্বজনের জন্য খাবার সরবরাহ করেন। এতে তার কষ্ট না হলেও বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবরাহের জন্য তাকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। প্রতিদিনই তাকে প্রায় ২শ টাকার পানি কিনতে হচ্ছে।

মাইনুল ইসলাম নামের আরেক রোগীর স্বজন জানান, আমার ৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে দুদিন হলো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতালের নলকূপ নষ্ট থাকায় রাতে পানি সংগ্রহ করতে পারিনা। ভোরে হাসপাতালের বাইরে অনেক দূর থেকে পানি আনি। এভাবে সকল রোগীই পানি সংকটে রয়েছেন বলে তিনি জানান।
অন্যান্য রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালের পাইপ লাইনে যে পানি আসছে, তাতে ময়লা ও পোকা থাকায় তা পানের অযোগ্য। তবে, সে পানি দিয়ে ধোয়া-মোছার কাজটি করা যায় কোনরকমে।

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ জামান জুয়েল জানান, খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান আমরা করে ফেলবো। ইতোমধ্যেই শিশু ওয়ার্ডের সামনের নলকূপটি মেরামতের ফলে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে । বাকি গুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবহারের যোগ্য করে তুললে রোগী ও স্বজনদের সুবিধা হবে।