Dhaka ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পাদকীয়: আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, প্রবাসী আয় এবং বাংলাদেশের করণীয়

সময়ের কন্ঠ সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : ০৮:০৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • / ৩৭৩ ০০০ বার

বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। মূল্যস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা।

মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং অসংখ্য পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই প্রবাসীরা শুধু পরিবারের নয়, দেশের অর্থনীতিরও অন্যতম চালিকাশক্তি।

তবে প্রবাসীদের এখনও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয়, দালালচক্রের প্রতারণা, কর্মক্ষেত্রে অধিকারহীনতা, সময়মতো বেতন না পাওয়া এবং দেশে ফিরে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার, দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের আরও উৎসাহিত করতে হবে। ব্যাংকিং সেবা সহজ করা, ডিজিটাল অর্থ প্রেরণের সুযোগ বাড়ানো এবং প্রণোদনা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া গেলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে প্রবাসীদের অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং তাদের কল্যাণে বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রবাসীবান্ধব নীতি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নিরাপদ শ্রমবাজার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

প্রবাসীরা দেশের গর্ব। তাদের শ্রম, ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করাই হোক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।

জাতীয় নিউজ

সম্পাদকীয়: আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, প্রবাসী আয় এবং বাংলাদেশের করণীয়

আপডেট টাইম : ০৮:০৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। মূল্যস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা।

মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং অসংখ্য পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই প্রবাসীরা শুধু পরিবারের নয়, দেশের অর্থনীতিরও অন্যতম চালিকাশক্তি।

তবে প্রবাসীদের এখনও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয়, দালালচক্রের প্রতারণা, কর্মক্ষেত্রে অধিকারহীনতা, সময়মতো বেতন না পাওয়া এবং দেশে ফিরে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার, দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের আরও উৎসাহিত করতে হবে। ব্যাংকিং সেবা সহজ করা, ডিজিটাল অর্থ প্রেরণের সুযোগ বাড়ানো এবং প্রণোদনা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া গেলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে প্রবাসীদের অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং তাদের কল্যাণে বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রবাসীবান্ধব নীতি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নিরাপদ শ্রমবাজার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

প্রবাসীরা দেশের গর্ব। তাদের শ্রম, ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করাই হোক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।