জুলাইয়ের চেতনা রক্ষায় আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ জরুরি
- আপডেট টাইম : ১০:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / ৪২ ০০০ বার

জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ উঠে আসছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে এমন অভিযোগও করা হচ্ছে যে, কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে কাজ করছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ একটি বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে কোনো একটি রাজনৈতিক দলই রাষ্ট্রের একমাত্র প্রতিনিধিত্ব করে না। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি কিংবা অন্যান্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল—সবারই আইনসম্মতভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে কোনো দল বা গোষ্ঠীরই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।
রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের আস্থা। সেই আস্থা তখনই তৈরি হয়, যখন পুলিশ, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করে। যদি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন হামলা, ভাঙচুর বা রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়, তবে তাদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত—তারা যে দলেরই হোক না কেন।
জুলাইয়ের আন্দোলন দেশের মানুষের কাছে ন্যায়বিচার, অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সেই চেতনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা। ভিন্নমত দমন নয়, বরং সংলাপ, ন্যায়বিচার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীন কার্যক্রমই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে।
আজ দেশের মানুষ এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চায়, যেখানে নাগরিকের পরিচয় হবে প্রথমে “বাংলাদেশের মানুষ”, পরে তার রাজনৈতিক পরিচয়। আইন, আদালত ও প্রশাসন যদি দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করে, তবেই জনগণের প্রকৃত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।














