জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল অনুষ্ঠিত
- আপডেট টাইম : ১০:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৮৬ ০০০ বার

রাজধানীতে জামায়াতের বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সুবিধাভোগী হলেও বিএনপি এখন সেই চেতনা থেকে সরে এসেছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে কিছু লোক বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার বাস্তবায়নই ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর একমাত্র পথ।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সুবিধাভোগী হলেও বিএনপি এখন সেই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে সরে এসেছে। নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তারা তা ভুলে গেছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, কেবল আইনের আংশিক সংশোধন নয়, গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন। এ সংস্কার বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রক্ষমতা আর কোনো একক সরকারের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে না।
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আইন সংশোধনের মাধ্যমে ‘রিফর্ম আওয়ামী লীগ’ নামে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে সরে গেছে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোকজন নিয়োগ দিচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সত্য কথা বলার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। পাঁচ মাসেও কাঙ্ক্ষিত কোনো পরিবর্তন হয়নি।
জামায়াতকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত কখনো গোপন সংগঠন ছিল না। বিভিন্ন আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে যারা নানা মন্তব্য করেন, তাদের বক্তব্য জনগণই মূল্যায়ন করবে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর ও ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তই আওয়ামী লীগের বিদায়ের সূচনা হয়ে দাঁড়ায় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজপথে ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বপন্থীদের বিজয় হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে নিতে হবে। প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখেও ভোট রক্ষায় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান ও ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, মুফতী আলী হাসান উসামা এবং ড. ফয়জুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, জামাল উদ্দিন, নাসির উদ্দীনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশ শেষে মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে থেকে একটি গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি তেজগাঁও তিব্বত মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা দক্ষিণের উদ্যোগে আজ শনিবার রাজধানীতে একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশ ও মিছিলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
ছবিতে দেখা যায়, খিলগাঁও থানা দক্ষিণের নেতাকর্মীরা একটি বড় ব্যানার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। ব্যানারে “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে গণমিছিল” এবং “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, খিলগাঁও থানা দক্ষিণ” লেখা রয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা জনগণের ভোটাধিকার, সুশাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে।














