Dhaka ০৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা এএসআই নুর আলমের বিরুদ্ধে মা ও চার পরিবারের সদস্যকে মামলা-হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ০৩:২৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫০ ০০০.০০.বার দেখেছেন

জমি-জমা নিয়ে বিরোধ, অর্থ লেনদেন, হুমকি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ—‘পুলিশ না সন্ত্রাসী কার্যক্রম?’ তদন্তের দাবি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ প্রতিনিধি।।
দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালি থানায় কর্মরত এএসআই মো. নুর আলমের বিরুদ্ধে নিজের বৃদ্ধ মা, তিন বোন এবং অপর এক বোনের নাবালক সন্তানকে আদালতের মামলায় জড়িয়ে হয়রানি, জমি-জমা নিয়ে বিরোধ, অর্থ লেনদেনের বিষয়ে অসঙ্গতি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার আরাজি গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত তৈয়ব হোসেনের ছেলে মো. নুর আলম বর্তমানে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত। পরিবারের দাবি, তৈয়ব হোসেন জীবদ্দশায় পারিবারিক প্রয়োজনে পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি বিক্রি ও বন্ধক রাখেন। এসব জমির অর্থের একটি বড় অংশ নুর আলম নিজে গ্রহণ করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পীরগঞ্জ থানায় ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে নুর আলমকে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা গণনা করতে দেখা যায়। পরিবারের দাবি, ওই অর্থ জমি-সংক্রান্ত লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে অর্থের প্রকৃত উৎস, মালিকানা ও লেনদেনের বৈধতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, নুর আলমের বাবা মৃত্যুর আগে স্থানীয় কয়েকজনের কাছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে জমি বন্ধক রেখেছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ওই বন্ধকী অর্থের পরিবর্তে মায়ের কাছে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকার হিসাব উপস্থাপন করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ হিসাবের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।

মা ও বোনদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ

পরিবারের অভিযোগ, পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে বৃদ্ধ মা ও চার বোনের যে অংশ রয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাদের দাবি, নুর আলম পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অংশের জমিও অন্য ব্যক্তিদের কাছে বর্গা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।

এ নিয়ে মা মোছা. মমতাজ বেগম, বোন শাহানা বেগম, ফারজানা খাতুন, সুমি আক্তার এবং অপর বোন নূর নিহারের নাবালক কন্যা আমেনা আক্তারসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের বিজ্ঞ সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটির নম্বর ৭৩/২৬।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিজেদের প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করেও তারা সমাধান পাননি। বরং নুর আলম পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত থাকার বিষয়টি প্রভাব হিসেবে ব্যবহার করে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

‘পুলিশি ক্ষমতা নাকি পারিবারিক বিরোধে প্রভাব?’

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন—একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি নিজের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে নিজের পদ ও পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করেন, তাহলে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কীভাবে?

তাদের আরও অভিযোগ, নুর আলম ছুটিতে এলাকায় গেলে পুলিশের পরিচয় ও ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এমনকি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে নুর আলমের বিরুদ্ধে আরও অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তি-সংক্রান্ত লেনদেন, জমি বর্গা দেওয়া, অর্থ গ্রহণের অভিযোগ এবং মামলার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের হয়রানির বিষয়গুলো একজন নিরপেক্ষ তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাই করার দাবি উঠেছে।

‘পুলিশ না সন্ত্রাসী কার্যক্রম?’—তদন্তের দাবি

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে যদি নিজের মা ও বোনদেরই ভয়ভীতি, মামলা ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি শুধু পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার পুলিশি পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না—সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযোগের সত্যতা না মিললে সংশ্লিষ্টদের অবস্থানও স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

বৃদ্ধ মা মোছা. মমতাজ বেগম বর্তমানে অসহায় অবস্থায় মেয়ে সুমি আক্তারের পীরগঞ্জের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এএসআই মো. নুর আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জমি ও অর্থসংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং কোনো ধরনের পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগের বিষয়ে এএসআই মো. নুর আলমের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

অনুসন্ধান চলমান।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media