Dhaka ০৯:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খিলগাঁও থানার ওসির বিরুদ্ধে ‘শোন অ্যারেস্ট’ বাণিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব অনুসন্ধান রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪৭২ ০০০.০০.বার দেখেছেন

২৮ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে অর্থের বিনিময়ে ছাড় দেওয়ার দাবি, তালিকায় ঘুষের অঙ্ক প্রায় ৩৪ লাখ টাকা

ঢাকার খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার বা গ্রেপ্তারযোগ্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘শোন অ্যারেস্ট’ না দেখিয়ে অর্থের বিনিময়ে তাদের মুক্ত থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ২৮ জনের একটি তালিকা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাম, সাংগঠনিক পদ, মামলার নম্বর, কথিত লেনদেনের অঙ্ক এবং টাকা গ্রহণের অভিযোগে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ২৮ জনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। অভিযোগে মোট টাকার পরিমাণ প্রায় ৩৪ লাখ ৯ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।

তালিকায় খিলগাঁও থানা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কথিত লেনদেনের ক্ষেত্রে কনস্টেবল শামীম, কনস্টেবল মোফাজ্জল, এসআই সায়েম এবং এসআই আব্দুর রাজ্জাকের নাম এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের কেউ কেউ আসামিদের স্বজনদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তালিকায় থাকা অভিযোগগুলোর মধ্যে আসলাম উদ্দিন মোল্লার ক্ষেত্রে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা, নুরুজ্জামান জুয়েলের ক্ষেত্রে ৭ লাখ টাকা, সাখাওয়াত হোসেন আওলাদের ক্ষেত্রে ৪ লাখ টাকা এবং লুৎফুর কবির ওরফে শাওনের ক্ষেত্রে ৪ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া তালিকায় রাশিদা বেগম, আজিজুল মাহমুদ খান স্বপন, এ এস এম হান্নান, মাসুম শিকদার, মো. জাহাঙ্গীর আলম সৈকত, মো. বাবুল ওরফে কসাই বাবুল, মো. আজিজুল হক মুকুল, ফাহাদ উল্লাহ, রাজিব ওরফে মারুফ হোসেন রাজীব, মো. আবুল হোসেন, রেজাউল বারী রাজিব, আদনান খান সাদ, এস এম সুলতান, গাজী মনোয়ার হোসেন, শেখ জালাল আহমেদ, সোহানুর রহমান হৃদয়, আহমেদ জুলকারনাইন অনি, নিজাম আলী নিজু, মাজহারুল ইসলাম ওরফে আদা মামুন, মাসুদ রানা, সাফায়েত হোসেন ওরফে সিয়াম, আল মামুন সরকার, পিটার নাসির এবং শরীফ বাকাউলের নাম রয়েছে।

বিশেষ করে পিটার নাসির নামের এক ব্যক্তিকে র‍্যাব বরিশাল থেকে গ্রেপ্তারের পর খিলগাঁও থানার মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ না দেখিয়ে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে থানার ওসির বিরুদ্ধে সরাসরি অর্থ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে প্রামাণ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

‘আরও অনেকে’—দাবি অভিযোগকারীদের

অভিযোগকারীদের দাবি, তালিকায় থাকা ২৮ জনই শেষ নয়। এর বাইরেও আরও অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে একই ধরনের প্রক্রিয়ায় অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের দাবি, এই ২৮ জনের ক্ষেত্রে তারা নাম, মামলা এবং কথিত লেনদেনের অঙ্কসহ তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।

হেডকোয়ার্টারের নজরদারি প্রয়োজন

একটি থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি শুধু স্থানীয় পর্যায়ে তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুলিশ সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

বিশেষ করে—কোন মামলায় কাকে কখন গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, কার বিরুদ্ধে ‘শোন অ্যারেস্ট’ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট মামলার কেস ডায়েরি, জিডি, গ্রেপ্তার রেজিস্টার, আদালতের নথি এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের আর্থিক লেনদেন—এসব যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা নির্ণয় করা সম্ভব হতে পারে।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন—খিলগাঁও থানায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ ও মামলাসংক্রান্ত কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে তার তদন্ত হবে কি? অভিযোগে যেসব পুলিশ সদস্যের নাম এসেছে, তাদের ভূমিকা কী? আর তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে কি?

এ বিষয়ে খিলগাঁও থানার ওসি শফিকুল ইসলাম এবং অভিযোগে নাম আসা পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media