ঢাকায় পোলিশ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের নিয়ে বিশেষ আলোচনা দুই দিনব্যাপী ‘পোলিশ কালচার ইন বাংলাদেশ’ আয়োজন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাহিত্য আলোচনা
- আপডেট টাইম : ০৯:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৮ ০০০.০০.বার দেখেছেন

বাংলাদেশের দর্শক, পাঠক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের সামনে পোল্যান্ডের শিল্প, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে রাজধানী ঢাকায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন। ‘Polish Culture in Bangladesh’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে পোলিশ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি দেশটির নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম ও অবদান নিয়ে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
৬ ও ৭ নভেম্বর রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সিনেমা হলে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আয়োজন করেছে নয়াদিল্লির পোলিশ ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশে পোল্যান্ডের অনারারি কনস্যুলেট জেনারেল।
### চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পোল্যান্ডের সংস্কৃতি তুলে ধরা
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ পোল্যান্ডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেশটির ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারা বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রথম দিন সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে বিখ্যাত পোলিশ চলচ্চিত্র পরিচালক আন্দ্রেজ ভাইদা পরিচালিত ‘Afterimage’ চলচ্চিত্রটি।
চলচ্চিত্রটি শিল্পী ও শিল্পের স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে একজন সৃজনশীল মানুষের সংঘাতের বিষয় তুলে ধরে।
### নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের নিয়ে আলোচনা
পোল্যান্ড বিশ্বসাহিত্যে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক ও কবির অবদানের জন্য পরিচিত। দেশটির নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম, চিন্তাভাবনা, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিশ্বসাহিত্যে তাঁদের প্রভাব নিয়ে এ আয়োজনে আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে।
পোলিশ সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য লেখকদের মধ্যে রয়েছেন—
* হেনরিক সেনকেভিচ
* ভ্লাদিস্লাভ রেমন্ত
* চেসলাভ মিলোশ
* ভিসওয়াভা শিম্বর্স্কা
* ওলগা তোকারচুক
তাঁদের সাহিত্যকর্মে মানবজীবন, সমাজ, ইতিহাস, যুদ্ধ, শান্তি ও মানুষের অস্তিত্বের নানা দিক উঠে এসেছে।
### বাংলাদেশ-পোল্যান্ড সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নতুন সুযোগ
বাংলাদেশ ও পোল্যান্ডের মধ্যে শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে ইউরোপীয় সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
### সংস্কৃতির বিনিময়ে সমৃদ্ধ হোক দুই দেশ
সাহিত্য ও চলচ্চিত্র মানুষের চিন্তাজগৎকে প্রসারিত করে। ভিন্ন দেশের ইতিহাস, সমাজ ও জীবনযাত্রাকে জানার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে শিল্প-সংস্কৃতি।
ঢাকায় পোলিশ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের নিয়ে আলোচনার এ উদ্যোগ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন আগ্রহ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের বক্তব্য: সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্য দিয়েই জাতির মধ্যে জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।










