ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইউনিয়ন বিচ্ছিন্নের প্রস্তাবে উত্তেজনা: নিরপেক্ষ ভূমিকা ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান জেলা প্রশাসকের কাছে জনগণের প্রশ্ন—সুলতানপুর কেন? প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও আইনি ভিত্তি প্রকাশের দাবি
- আপডেট টাইম : ০৩:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ৭৪ ০০০.০০.বার দেখেছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা থেকে কয়েকটি ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন করে অন্য উপজেলা বা প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব ও বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নকে ঘিরে চলমান আলোচনা ও প্রতিবাদ নতুন করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ করে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে স্পষ্ট, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, একজন জেলা প্রশাসক শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, তিনি জেলার সার্বিক প্রশাসনিক সমন্বয় ও জনস্বার্থ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত। তাঁর বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পারে। কিন্তু কোনো বিষয়ে অস্পষ্ট বক্তব্য বা যথাযথ ব্যাখ্যার অভাব জনমনে বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চান না; বরং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে নিজেদের দাবি জানাতে চান। প্রশাসনিকভাবে কোনো ইউনিয়ন পুনর্বিন্যাস, উপজেলা পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া থাকলে তার আইনি ভিত্তি, সরকারি নির্দেশনা এবং জনগণের মতামত গ্রহণের পদ্ধতি প্রকাশ্যে জানানো হোক।
একজন স্থানীয় লেখক ও কবির বক্তব্যে উঠে এসেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বিভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সদর উপজেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে সুলতানপুর ইউনিয়নকে সদর থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অন্য কোনো ইউনিয়নকে বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ থাকলে তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সুলতানপুরকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘিরে প্রশ্ন
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। জেলা প্রশাসকের আশপাশে থাকা কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কতটা স্বচ্ছ এবং জনস্বার্থনির্ভর—তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট নথি, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রমাণ প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা সমীচীন নয়।
জনগণের দাবি কী?
স্থানীয়দের মূল দাবি—
১. ইউনিয়ন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবের সরকারি নথি ও আইনি ভিত্তি প্রকাশ করতে হবে।
২. সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনগণের মতামত গ্রহণ করতে হবে।
৩. জেলা প্রশাসককে প্রকাশ্যে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে।
৪. প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কোনো পক্ষপাত বা রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে তা তদন্ত করতে হবে।
৫. শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে জনগণের ন্যায্য দাবি বিবেচনা করতে হবে।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য প্রত্যাশা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। ইউনিয়নগুলো বিচ্ছিন্ন করার প্রস্তাবটি কোন পর্যায়ে রয়েছে? এ বিষয়ে কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে কি না? জনগণের আপত্তি ও মতামত কীভাবে বিবেচনা করা হবে?
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যও প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত যেকোনো অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী অনুসন্ধান প্রকাশ করা হবে।
জনগণের প্রত্যাশা একটাই—প্রশাসন হবে সবার, সিদ্ধান্ত হবে স্বচ্ছ, আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে।







