Dhaka ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জের বড়গাঁওয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে মাদক, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | গাজীপুর
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫১ ০০০.০০.বার দেখেছেন

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কেন্দ্র করে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে কেউ কেউ হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ছেন।

বিষয়টি শুধু একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িত সাধারণ মানুষের জমির অধিকার, নিরাপদে বসবাসের সুযোগ এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা।

রাজনৈতিক পরিচয় কি আইনের ঊর্ধ্বে?

স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত সংবাদে কালীগঞ্জের বড়গাঁও এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, অর্থ দাবি এবং জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়িত হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। একইভাবে, অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না। নিরপেক্ষ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করতে হবে।

মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও এলাকার তরুণ বায়েজিদ হাসান শিবলীকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে তাঁকে অপহরণ করে মারধর করা হয়েছিল এবং পরে তাঁর পকেটে ইয়াবা রেখে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এটি পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ—স্বাধীন তদন্তে এর সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন তথ্য এখানে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখা জরুরি।

কোনো তরুণ মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে হয়রানির শিকার হয়ে থাকলে তা উদ্বেগজনক। আবার অভিযোগের আড়ালে কাউকে মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে কি না, সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তদন্তের দাবি

কালীগঞ্জে জমি দখল, কৃষিজমিতে বালু ফেলা, অর্থ দাবি এবং ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিছু ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের খবরও প্রকাশিত হয়।

তবে জমির মালিকানা, দখলের প্রকৃত অবস্থা, অর্থ দাবির ঘটনা কিংবা অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, লিখিত অভিযোগ, সাক্ষ্য এবং প্রশাসনিক নথি যাচাই করা দরকার।

ভুক্তভোগীরা যদি লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকেন, তাহলে সেগুলোর অগ্রগতি কী, কোনো তদন্ত হয়েছে কি না এবং তাঁদের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া জরুরি।

প্রশাসনের কাছে যেসব প্রশ্ন

১. বড়গাঁও এলাকায় মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির অভিযোগে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা রয়েছে কি না?

২. জমি দখল ও কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ভরাটের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হয়েছে কি না?

৩. বায়েজিদ হাসান শিবলীকে ঘিরে তাঁর পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

৪. অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না?

৫. অভিযোগে রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যবহার উঠে এলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠন নিজস্বভাবে বিষয়টি যাচাই করছে কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য নিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

দল নয়, অপরাধের বিচার হোক আইনে

রাজনৈতিক পরিচয় মানুষের সাংবিধানিক অধিকার হতে পারে, কিন্তু সেই পরিচয় ব্যবহার করে অন্যের সম্পদ, নিরাপত্তা কিংবা নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার কোনো বৈধ সুযোগ নেই। আবার রাজনৈতিক বিরোধের কারণে মিথ্যা অভিযোগে কাউকে হয়রানি করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

এ কারণে কালীগঞ্জের বড়গাঁও এলাকায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য গ্রহণ—তিনটি বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি,

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media