ডিআইজি জহিরের ভাড়া বাড়িতে মাদক উদ্ধার, ৮৪ জন আটক অতীতের গ্রেপ্তার ও মামলা পরিচালনা নিয়ে অভিযোগ যাচাইয়ের দাবি, সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধানের আহ্বান
- আপডেট টাইম : ১২:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪১ ০০০.০০.বার দেখেছেন

রাজধানীর পুলিশ হাউজিং-১ এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদক উদ্ধার ও নারী-পুরুষসহ ৮৪ জনকে আটকের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আফগানিস্তানের একজন নাগরিকও ছিলেন বলে পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বাড়িটির মালিকানা, ভাড়া ব্যবস্থাপনা, আয়ের হিসাব এবং বাড়িতে সংঘটিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মালিকপক্ষ কতটা অবগত ছিল—এসব বিষয় সামনে এসেছে। পাশাপাশি অতীতে তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন থানা ও জেলায় গ্রেপ্তার, মামলা পরিচালনা এবং কথিত অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ থাকলে সেগুলোও নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করার দাবি উঠতে পারে।
আবাসিক বাড়িতে কীভাবে চলছিল এসব কার্যক্রম?
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো। গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং বহু ব্যক্তিকে আটকের পর বাড়িটির ব্যবস্থাপনা ও ভাড়ার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—বাড়িটি কত দিন ধরে এভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল, কারা অনুষ্ঠান আয়োজন করতেন, ভাড়াটিয়াদের পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা কী ছিল এবং কোনো পূর্ববর্তী অভিযোগ বা সতর্কবার্তা পাওয়া গিয়েছিল কি না।
পুলিশের বক্তব্য, বাড়ির মালিকের ব্যাখ্যা এবং তদন্তে সংগৃহীত নথিপত্র মিলিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।
অতীতের গ্রেপ্তার ও মামলা পরিচালনা নিয়ে অভিযোগ যাচাই হোক
অভিযোগকারীদের বক্তব্যে অতীতে বিভিন্ন থানা ও জেলায় বেআইনি গ্রেপ্তার, অনিয়ম এবং মামলা বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে নির্দিষ্ট মামলা, ভুক্তভোগীর বক্তব্য, আদালতের নথি বা বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যায় না।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অতীতে যেসব দায়িত্ব পালন করেছেন, সেসব সময়ের অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যেতে পারে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কি না, মামলায় মিথ্যা তথ্য বা অসংগত অভিযোগ যুক্ত হয়েছিল কি না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে কি না—তা নথিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের পক্ষে আদালতের রায়, মামলা নম্বর, তদন্ত প্রতিবেদন বা ভুক্তভোগীর নির্ভরযোগ্য বক্তব্য পাওয়া গেলে সেগুলো প্রতিবেদনে পৃথকভাবে তুলে ধরা উচিত।
সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নামে বা বেনামে ব্যাংক হিসাব, বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট কিংবা ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ রয়েছে—এমন অভিযোগের সত্যতা এই মুহূর্তে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
তবে অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি বিষয় যাচাইয়ের দাবি জানানো যেতে পারে:
– বাড়ি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা এবং ক্রয়ের সময়কাল।
– বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদ অর্জনের সামঞ্জস্য।
– বাড়ি ভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থের হিসাব ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক লেনদেন।
– সম্পদ বিবরণীতে প্রযোজ্য তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে কি না।
– কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অন্যের নামে সম্পদ রাখার অভিযোগ উঠলে তার প্রকৃত মালিকানা।
এসব তথ্য যাচাইয়ের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষের। ব্যাংকের গোপনীয় তথ্য বা সম্পদের মালিকানা সম্পর্কে প্রমাণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
বিদেশি নাগরিক আটক: তদন্তে পরিচয় ও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আফগানিস্তানের একজন নাগরিক ছিলেন। তাঁর পরিচয়, ওই বাড়িতে উপস্থিত থাকার কারণ এবং কোনো অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই করা প্রয়োজন।
শুধু বিদেশি নাগরিক হওয়া অপরাধের প্রমাণ নয়। একইভাবে অভিযানে আটক হওয়া এবং কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক বিষয় নয়। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ভূমিকা ও দায় আলাদাভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
তদন্তের আওতায় আসুক বাড়ি ভাড়া, আয় ও দায়িত্বের বিষয়
ঘটনাটি ঘিরে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বাড়ির ভাড়ার চুক্তি, অনলাইন বুকিংয়ের তথ্য, আয়ের হিসাব, ভাড়াটিয়াদের পরিচয় যাচাইয়ের নথি এবং অভিযানে জব্দ করা আলামত পরীক্ষা করা যেতে পারে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত নির্দিষ্ট অভিযোগ যাচাই এবং তদন্তের ফল অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠ-এর বক্তব্য: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পদমর্যাদা বিবেচনা না করে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর প্রমাণ না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।
জনগণের আস্থা রক্ষার জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং জবাবদিহি।









