সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, পরিচয়পত্র বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের জবাবদিহি দাবি
- আপডেট টাইম : ১০:৪৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ৭৭ ০০০.০০.বার দেখেছেন

গাজীপুরে সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে আক্রমণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতা-কর্মীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহুমুখী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও অধিকারকর্মী জুলীয়াস চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, গাজীপুরে কিছু নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। এ বিষয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে বার্তা পাঠিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে গাজীপুরের সাংবাদিকতার পরিবেশ, সাংবাদিক পরিচয়পত্রের যথেচ্ছ ব্যবহার, অর্থের বিনিময়ে পরিচয়পত্র দেওয়ার অভিযোগ এবং চাঁদাবাজি, অনিয়ম-দুর্নীতি ও ভূমি দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র কি পেশাগত যোগ্যতার বিকল্প?
সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র প্রদান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে গাজীপুরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে, অথচ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, প্রতিবেদন তৈরি ও পেশাগত দক্ষতা যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি, অনিয়ম কিংবা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন, তাঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একইভাবে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই ছাড়া পরিচয়পত্র প্রদান করে অপেশাদার কিংবা অসৎ ব্যক্তিদের সাংবাদিকতার পরিচয়ে সামনে আসার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের ভূমিকারও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তবে অর্থের বিনিময়ে পরিচয়পত্র প্রদান বা অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট নথি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ভূমি দখলের অভিযোগে কারা কার পক্ষে?
গাজীপুরে চাঁদাবাজি, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং ভূমি দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও তদন্তের দাবি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিতর্কিত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নেন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্টদের আর্থিক লেনদেন, পরিচয়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়া, প্রকাশিত সংবাদ এবং অভিযোগের নথি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
জুলীয়াস চৌধুরীর বক্তব্যের সূত্র ধরে রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ও অতীতে ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে আলোচিত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে কারা অতীতে কী ধরনের সুবিধা নিয়েছেন, কারা বর্তমানে কোন গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করছেন এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না—তা নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা দরকার।
রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সাংবাদিকতার কার্ড কোনো ব্যক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারে না। একইভাবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। অভিযোগের তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারণ করতে হবে।
এনসিপি নেতৃত্বের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
জুলীয়াস চৌধুরী নাহিদ ইসলামের কাছে পাঠানো বার্তায় তিনটি ফেসবুক ভিডিওর লিংক দিয়ে অভিযোগগুলো পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, ভিডিওগুলো দেখে অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং তাঁকে বিষয়টি জানানো হোক।
ভিডিও লিংক:
১. https://www.facebook.com/reel/1095470683328681
২. https://www.facebook.com/reel/2208118143469908
৩. https://www.facebook.com/reel/2107430479956703
জুলীয়াস চৌধুরী আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাঁর দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গাজীপুরে এনসিপিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লাঠিমিছিল বা আক্রমণের ঘটনা ঘটলে সচেতন নাগরিকেরা তা প্রতিহত করবেন।
এদিকে, গাজীপুর নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় গাজীপুর মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি জরুরি
গাজীপুরে সাংবাদিকতার নামে কোনো অনিয়ম, চাঁদাবাজি কিংবা ভূমি দখলকে সহায়তা করার অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
যেসব প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র প্রদান করে, তাদের পরিচয়পত্র দেওয়ার নীতিমালা, যোগ্যতা যাচাই ও অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও জনস্বার্থে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠ মনে করে, সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে পেশাগত যোগ্যতা, নৈতিকতা, তথ্যের সত্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থের প্রভাব কিংবা ক্ষমতাবানদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কোনো অভিযোগ যেন ধামাচাপা না পড়ে—সেই নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।











