*সম্পাদকীয়* ১.৬৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ: প্রবাসীদের প্রতি আমাদের দায় কতটুকু?
- আপডেট টাইম : ১০:৪০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
- / ৮৮ ০০০. ০০ বার

প্রতি বছর প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠান ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। এই টাকা দিয়েই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ টিকে থাকে, টাকার মান ধরে রাখা যায়, দ্রব্যমূল্যের চাপ সামলানো যায়। অথচ জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি যে প্রশ্নটা করেছেন, তা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় – “সেই তুলনায় কি সার্ভিস আমরা তাদের দিচ্ছি?”
বিরোধী দলের ড. শফিকুর রহমানসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরাও একই সুরে কথা বলেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রবাসীদের জন্য দেশে “সেবা” বলতে যা আছে, তা অপ্রতুল।
*প্রবাসীদের ৪ টা বড় অভিযোগ:*
১. *এয়ারপোর্ট হয়রানি*: কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠানো মানুষটাই দেশে ফিরে লাগেজ হারানো, ইমিগ্রেশনে হয়রানি, কাস্টমসে হয়রানির শিকার হন।
১. *জমি-জমার ঝামেলা*: প্রবাসে কষ্ট করে টাকা পাঠিয়ে দেশে জমি কিনেন। কিন্তু ওয়ারিশি জমি, ভুয়া দলিল, “দালের” দৌরাত্ম্যে সেই জমি রক্ষা করতে পারেন না।
৩. *ব্যাংকিং জটিলতা*: রেমিট্যান্সের টাকা তুলতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন। “ডলার রেট কম”, “সার্ভার নাই” – নানা অজুহাত।
৪. *সামাজিক স্বীকৃতি নাই*: রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবাসীদের “রেমিট্যান্স যোদ্ধা” বলা হয়। কিন্তু পাসপোর্ট অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা – কোথাও তাদের জন্য আলাদা সেবা নাই।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি সংসদে ঠিকই বলেছেন – এটা বিবেকের প্রশ্ন। আমরা টাকা নিচ্ছি, কিন্তু মর্যাদা দিচ্ছি না।
*করণীয় ৩টা:*
১. *ওয়ান-স্টপ সার্ভিস*: প্রতিটি জেলায় “প্রবাসী সেবা সেন্টার”। জমি, পাসপোর্ট, ব্যাংক – সব সমস্যার সমাধান এক ছাদের নিচে।
২. *এয়ারপোর্টে ভিআইপি ট্রিটমেন্ট*: রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য আলাদা লাউঞ্জ, দ্রুত ইমিগ্রেশন, লাগেজ প্রায়োরিটি।
৩. *আইনি সুরক্ষা*: প্রবাসীদের জমি দখল, ভুয়া দলিলের বিরুদ্ধে “স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল”। মামলা 6 মাসে নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক।
সরকারও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড করেছে। কিন্তু সংসদ সদস্যদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে সেবা পৌঁছায় না।
শেষ কথা: রেমিট্যান্স শুধু ডলার না, এটা 1 কোটি পরিবারের ঘাম। ১.৬৮ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে আমরা যদি শুধু “ধন্যবাদ” দিই, তবে ঋণ শোধ হবে না। ঋণ শোধ হবে সেবা দিয়ে, সম্মান দিয়ে।
প্রবাসী বাঁচলে, দেশ বাঁচবে।




















