ঋণ খেলাপি বনাম সম্পদের ঘোষণা: সংসদে যে বিতর্ক হলো*
- আপডেট টাইম : ১১:৩০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / ১৫ ০০০. ০০ বার

জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে ঘিরে সম্প্রতি আলোচনা চলছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, “এখানে সবাই ঋণগ্রস্ত”। পাল্টা জবাবে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন এমপি হাত নেড়ে জানান, “আমাদের কেউ ঋণগ্রস্ত নন”। এক পর্যায়ে সংসদ নেতার আসন থেকে একজন সদস্য জামায়াতের এমপিদের উদ্দেশে মন্তব্য করেন, “ওরা সবাই জমিদার”।
এই বিতর্কের সূত্র ধরে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে – জামায়াতের অধিকাংশ এমপির নামে ব্যাংক ঋণ না থাকা কি বিশ্বাসযোগ্য? আবার পাল্টা অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন দলের অনেক এমপির বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ খেলাপির অভিযোগ আছে।
“দৈনিক সময়ের কন্ঠ” মনে করে, ৩টা বিষয় এখানে পরিষ্কার হওয়া দরকার:
১. *তথ্য বনাম ধারণা*: কোনো এমপি ঋণগ্রস্ত কিনা – তা জানার উপায় হলো নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট। “বিশ্বাস হয় না” – এটা ধারণা। “রিপোর্টে নাই” – এটা তথ্য। জনগণ তথ্য চায়, ধারণা না। নির্বাচন কমিশনের উচিত সব এমপির হলফনামা অনলাইনে সহজলভ্য করা।
২. *ঋণ খেলাপি = জাতীয় ইস্যু*: দল-মত নির্বিশেষে যে কোনো জনপ্রতিনিধি যদি ব্যাংকের টাকা ইচ্ছা করে খেলাপি করেন, তবে তা “আমানতের খেয়ানত”। ইসলামের দৃষ্টিতে আমানত রক্ষা ফরজ। হাদিসে আমানতের খেয়ানতকে মুনাফিকের আলামত বলা হয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে – `ইন্নাল মুনাফিকীনা ফীদ দারকিল আসফালি মিনান্নার` – নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে। এই আয়াত আমানতের গুরুত্ব বোঝায়, কোনো ব্যক্তি বা দলকে ট্যাগ দেওয়ার জন্য না।
৩. *ব্যাংক খাতের অবস্থা*: “অধিকাংশ ব্যাংক দেউলিয়া” – এটা সঠিক না। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু ব্যাংক তারল্য সংকটে আছে, কিছু ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি। কিন্তু পুরা খাত দেউলিয়া হয়ে যায়নি। আতঙ্ক ছড়ালে গ্রাহকরা টাকা তুলতে দৌড়াবে – তাতে ক্ষতি হবে দেশেরই।
*সমাধান কী?*
১. সব এমপি-মন্ত্রীর ঋণের তথ্য প্রতি বছর আপডেট করে প্রকাশ করতে হবে।
২. ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি করতে হবে।
৩. ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাতে রাজনৈতিক বিবেচনা বাদ দিতে হবে।
শেষ কথা: দেশ নিরাপদ থাকবে তখনই, যখন জনগণের টাকা নিরাপদ থাকবে। আর জনপ্রতিনিধিরা যখন কথা ও কাজে এক থাকবেন। জামায়াত হোক, বিএনপি হোক, আওয়ামী লীগ হোক আমানতের খেয়ানতকারী যেই হোক, তার বিচার চাই।
হে আল্লাহ, বাংলাদেশে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করুন। আমিন।




















