জনগণের সরকার নাকি দলীয় সরকার? জবাবদিহিতার প্রশ্ন সামনে
- আপডেট টাইম : ০৯:৩৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / ২২ ০০০. ০০ বার

*সম্পাদকীয়*
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র “জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য”। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে – বর্তমান সরকার কি সত্যিই জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন করছে, নাকি দলীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে?
অনেক নাগরিকের অভিযোগ, নীতিনির্ধারণে জনগণের মতামতের চেয়ে দলীয় বিবেচনা বেশি প্রভাব ফেলছে। প্রশাসন, উন্নয়ন প্রকল্প, নিয়োগ-বদলি – সবখানে “দলীয় লোক” প্রাধান্য পাচ্ছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, পর্দার আড়াল থেকে অদৃশ্য শক্তি সরকারকে প্রভাবিত করছে, যারা দেশের সামগ্রিক কল্যাণের চেয়ে গোষ্ঠীস্বার্থকে বড় করে দেখছে।
এই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই। কারণ গণতন্ত্রে সরকারের কাজই হলো সমালোচনা শোনা। যখন মানুষ বলে “আমাদের কথা শোনা হচ্ছে না”, তখন সরকারের উচিত সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা। দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব, আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি – এই ইস্যুগুলোতে মানুষের কষ্ট বাস্তব। সেই কষ্ট লাঘব না করে শুধু উন্নয়নের গল্প শোনালে মানুষের আস্থা ফেরানো যাবে না।
আবার এটাও সত্য, সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়নের পরিসংখ্যান দেওয়া হচ্ছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ উৎপাদন – বড় প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে। সরকারের দাবি,তারা দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ফারাক ঘোচাতে হবে সংলাপ দিয়ে, সংঘাত দিয়ে নয়।
আমাদের প্রস্তাব ৩ টি:
১. *স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে*: প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি জনগণকে বোঝাতে হবে। টেন্ডার, নিয়োগ, প্রকল্প – সব ওপেন করতে হবে।
২. *সমালোচনার জায়গা রাখতে হবে*:”দেশের ভালো চায় না”-এমন কঠিন কথা না বলে সরকারের উচিত সমালোচকদের কথা শোনা। বিরোধী মত দমন করলে দলীয় সরকারের অভিযোগই শক্ত হয়।
৩ *জনগণের অংশগ্রহণ*:ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায়- বাজেট, নীতি তৈরিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষজ্ঞ, সিভিল সোসাইটির মত নিতে হবে।
সরকার কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়। ৫ বছর পর জনগণই সরকার বানায়, ভাঙে। তাই “জনগণের সরকার” প্রমাণ করতে হলে কাজ দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, স্লোগান দিয়ে নয়। আর সমালোচকদেরও মনে রাখতে হবে – সমালোচনা মানে ধ্বংস নয়,গঠনমূলক সমালোচনাই দেশকে এগিয়ে নেয়।
দেশ সবার। দল আসবে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশ থাকবে।




















