ফটিকছড়িতে প্রসূতি মারার অভিযোগ: সিলগালা করা সেই ক্লিনিক আবার চালু!
- আপডেট টাইম : ১২:২১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / ৩ ০০০. ০০ বার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সদরে সন্তান প্রসবা প্রসূতিকে মারা ও লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে সিলগালা করা সেই ‘সেবা ক্লিনিক এন্ড ল্যাব ইন’ আবার চালু করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ঝাঁকঝমকপূর্ণ পরিবেশেই এটির উদ্বোধন হয়। ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ঋভুরাজ চক্রবর্ত্তী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহম্মদ রশিদ চৌধুরী, মুখ্য আলোচনায় প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দত্ত এবং বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন কাঞ্চন প্রমুখ।
এরআগে, বুধবার কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর প্রধান অতিথি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম উদ্বোধক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল আলম প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা বলেছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে নানা সমালোচনা, বিতর্ক ও স্পর্শকাতরতা নিয়ে অতিথিবর্গ অনুষ্ঠানে যোগ দেন নি। তবে অপরাগতার বিষয়ে তারা ব্যক্তিগত নানা অজুহাত দেখালেও বিষয়টি ছিলো ভিন্ন। এ নিয়ে পুরো সদরজুড়ে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ আছে, ২০২৩ সালের ৪ জুলাই রাতে উপজেলার কাঞ্চননগরের জান্নাতুল মাওয়া রনি (২২) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সেবাকেন্দ্রে উত্তেজনা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ভুল চিকিৎসা ও অ্যানেসথেশিয়ার অতিরিক্ত ডোজ প্রয়োগের কারণে প্রসুতির মৃত্যু হয়। নিহতের স্বামী রোমান উদ্দিনও সে সময় এমন অভিযোগ করেছিলেন। এসময় তিনি স্ত্রী হত্যার সুষ্ঠু বিচারও চান।
সেদিন উত্তপ্ত খবরে ক্ষুব্ধ জনতা দায়ী চিকিৎসককে খুঁজতে সেবাকেন্দ্র হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে আত্মগোপনে যান। পরে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এসময় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুদীপ্ত সরকার এবং ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির রহমান সানি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) এ টি এম কামরুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সসহ বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানাসহ সেবাকেন্দ্রটির সকল কার্যক্রম বন্ধ করে সিলগালা করেন। তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ইউএইচও) আরেফিন আজিম এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, লাইসেন্স ও মানহীন এই সেবাকেন্দ্র আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পুনরায় চালু করায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সদরের মতো এলাকায় এটি চালু এবং তা কিভাবে সম্ভব তা নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সদরের বাসিন্দা নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘প্রসূতি মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনায় সিলগালা করা প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুতে আমরা উদ্বিগ্ন। এটি হতে থাকলে ভবিষ্যতে এর চরম মূল্য দিবো। এর মধ্যদিয়ে সাধারণের সেবার জায়গাটা সংকোচিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হলো। এর দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না।’
ব্যবসায়ী মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের কাজের মধ্যদিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের গাফিলতি ও চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। যা রাষ্ট্রীয় আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের শামিল।’
জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দত্ত বলেন, ‘ঝাঁকঝমকপূর্ণ ভাবেই উদ্বোধন হয়েছে। অনুষ্ঠানে সাংসদ, ইউ্এনও এবং ইউএইচও থাকার কথা থাকলেও নানা কারণে তারা আসেন নি। নানা অসংগতি ও অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, সব ঠিকঠাক করেই আমরা প্রতিষ্ঠান চালু করেছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ্এনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘পূর্বের কোনো বিষয় জানা ছিল না। প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ পেলে আমরা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’



















