কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে দুই কর্মকর্তার বদলির আদেশ, বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে তদন্ত চলাকালে বৈধতার দাবির অভিযোগ
- আপডেট টাইম : ০৯:৩৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ৩৩ ০০০ বার

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে সাবেক চেয়ারম্যানের আমলে কথিত অনিয়ম ও বিতর্কিত নিয়োগের অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি শিক্ষা বোর্ডে অবস্থান করে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) জারি করা পৃথক সরকারি আদেশে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপসচিব (প্রশাসন) মাসুম মিল্লাত মজুমদার এবং উপপরিচালক (ডিডি) শাজাহান-কে বদলি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক চেয়ারম্যান জামাল নাসেরের দায়িত্বকালে সম্পন্ন হওয়া বিতর্কিত নিয়োগ কার্যক্রমে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, উপসচিব (প্রশাসন) মাসুম মিল্লাত কথিতভাবে অনিয়মিতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া কিছু নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভুয়া বা জাল প্রতিবন্ধী সনদ এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটার ভুয়া সনদের মাধ্যমে চাকরি লাভ করেছেন—এমন অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের নিয়োগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান জামাল নাসেরসহ মোট ১১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যোগসাজশের মাধ্যমে আইনবহির্ভূত ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লোক নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন।
এদিকে গত ৫ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১১টায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বোর্ডের সিবিএ/কর্মচারী সমিতির সভাপতি সিরাজ বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তদের বৈধতা দেওয়ার দাবি উত্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক কর্মচারী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় বিতর্কিত নিয়োগকে বৈধ করার দাবি উত্থাপন করা সমীচীন নয়। তাঁর মতে, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এ ধরনের দাবি তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিতর্কিত নিয়োগ-সংক্রান্ত তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদনও দাখিল করা হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিয়োগ বৈধতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের প্রশ্নই ওঠে না।



















