আমিই ছিলাম দাবার এক গুটি’—মরিয়মের শেষ চিঠিতে সম্পর্কের টানাপোড়েন, তদন্তে উঠছে নানা প্রশ্ন
- আপডেট টাইম : ০২:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৭ ০০০.০০.বার দেখেছেন

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সরকারি বাসভবন থেকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি ও ডায়েরির পাতা উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। এসব লেখায় বৈবাহিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক যন্ত্রণা এবং নিজেকে প্রতারিত মনে করার কথা উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামতের পাশাপাশি তাঁর হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি ও ডায়েরির পাতা উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া একটি চিঠিতে মরিয়ম লিখেছেন—‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই… তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো, ততটা সস্তা আমি নই।’
অন্য একটি লেখায় তিনি নিজের অবস্থাকে দাবার গুটির সঙ্গে তুলনা করে লিখেছেন—‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি… যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি, তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’
আরেকটি পাতায় সম্পর্কের জটিলতা ও ভালোবাসা ভাগাভাগি করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মরিয়ম। সেখানে তিনি লেখেন, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের… ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়—ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ।’
সবচেয়ে আলোচিত আরেকটি লেখায় মরিয়ম উল্লেখ করেন, ‘সে বলেছিল—আজ থেকে আমরা বন্ধু, চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো—আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’
জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি পাতায় তাঁর ক্ষোভ ও মানসিক অবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। সেখানে লেখা—‘আমি হেরেছি—তুমি জিতেছ—কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছ।’
চিঠিগুলোর ভাষায় তীব্র অভিমান, হতাশা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রতিফলন থাকলেও এগুলো মৃত্যুর প্রকৃত কারণের চূড়ান্ত প্রমাণ কি না, তা তদন্তেই নির্ধারিত হবে। বিশেষ করে মরিয়মের মৃত্যুর আগে তিনি কোনো ধরনের মানসিক চাপ, প্ররোচনা বা অন্য কোনো পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন কি না—এ বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠি, ডায়েরির পাতা, অন্যান্য আলামত এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাই করছে। একই সঙ্গে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
মরিয়মের শেষ লেখাগুলো তাই এখন তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আলামত। এসব চিঠির প্রকৃত প্রেক্ষাপট কী, কার উদ্দেশে লেখা হয়েছিল এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এগুলোর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না—তদন্ত শেষ হলেই তার প্রকৃত উত্তর মিলবে।

















