Dhaka ০৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ বছরের পথচলা: মামলা-হয়রানি পেরিয়েও সংবাদপত্রের লড়াই ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, বদলায়নি সংবাদপত্রের লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩৬ ০০০.০০.বার দেখেছেন

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; hdrForward: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: portrait;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: off;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 41;

একটি সংবাদপত্র শুধু কাগজে ছাপা কিছু খবরের নাম নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সাংবাদিক, সংবাদকর্মী, পাঠক এবং সত্য তুলে ধরার একটি দীর্ঘ সংগ্রাম। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। দৈনিক সময়ের কণ্ঠ তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান—যার দীর্ঘ পথচলার দাবি প্রায় তিন দশকের।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ বোরহান হাওলাদার জসিম বিভিন্ন মামলা, হয়রানি, গ্রেপ্তার ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযোগের আরও একটি অংশ হলো—কোনো কোনো ঘটনায় পুলিশের কর্মকর্তা, এসআই ও ওসিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা, মামলা নম্বর, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা এবং আদালতের নথি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে অভিযোগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মামলা দিয়ে কি থামানো যায় সংবাদমাধ্যম?

একজন সম্পাদক যখন একের পর এক মামলার মুখোমুখি হন, তখন এর প্রভাব শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না। মামলা পরিচালনার খরচ, আইনজীবীর ব্যয়, আদালতে হাজিরা, গ্রেপ্তার বা কারাবাস—সবকিছু মিলিয়ে একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কাঠামোও চাপে পড়ে।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য—রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তারা কখনো কোনো পক্ষের আনুকূল্য পায়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কারণে চাপ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

অপহরণের অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সম্পাদককে অপহরণ বা বেআইনিভাবে তুলে নেওয়ার অভিযোগের মতো গুরুতর বিষয়ও সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এসআই, ওসি কিংবা অন্যান্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি।

কোন কর্মকর্তা কী দায়িত্বে ছিলেন, কোনো লিখিত আদেশ ছিল কি না, তাকে কোথা থেকে কোথায় নেওয়া হয়েছিল, মামলা কখন ও কীভাবে হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে হলে মামলার এজাহার, জিডি, গ্রেপ্তার সংক্রান্ত নথি, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি রেকর্ড পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

আর যদি কোনো কর্মকর্তা আইন বহির্ভূতভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তাহলে ভুক্তভোগীর আইনগত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

ক্ষতিপূরণের প্রশ্নটিও কি উঠবে না?

এখানেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—যদি কোনো সাংবাদিক বা সম্পাদক বেআইনি গ্রেপ্তার, হয়রানি, নির্যাতন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে তার প্রতিকার কী?

অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু প্রতিকার পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হয়।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের সম্পাদক এমন কোনো ক্ষতিপূরণ বা প্রতিকারমূলক মামলা করেছেন কি না, কোন কোন ঘটনায় করেছেন বা করেননি—সেটিও নথি যাচাই করে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

ক্ষমতা বদলায়, সুবিধাভোগীদের অবস্থানও বদলায়?

সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো—রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা।

সমালোচকদের অভিযোগ, একসময় যারা আওয়ামী লীগের ক্ষমতাবানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাদের কেউ কেউ পরবর্তীতে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার একই সময়ে কিছু সংবাদপত্র ও সম্পাদক নিজেদের স্বার্থে ক্ষমতাসীনদের প্রশংসা কিংবা বিরোধীদের সমালোচনায় অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন। রাজনৈতিক আনুগত্যের অভিযোগের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য।

প্রশ্ন হলো—সংবাদপত্র কি ক্ষমতার পা চাটবে, নাকি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবে?

পাশে দাঁড়ানোর মানুষ কোথায়?

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের নানা মামলা, সংকট ও প্রতিকূলতার সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল কিংবা সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

এমনকি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও প্রতিষ্ঠানটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছে—এমনটাই তাদের দাবি।

একটি সংবাদপত্রের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়া উচিত তার পাঠক, সাংবাদিকতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা। কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা নয়।

তিন দশকের পথ—থামেনি পথচলা

মামলা, আর্থিক সংকট, প্রশাসনিক চাপ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কিংবা রাজনৈতিক প্রতিকূলতা—সবকিছুর মধ্যেও দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পথচলা অব্যাহত রাখার দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য স্পষ্ট—যারা বিভিন্ন সময়ে সম্পাদক ও সংবাদপত্রকে বিপদগ্রস্ত করেছেন, তাদের কারণে অর্থনৈতিক, শারীরিক ও মানবিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হলেও সংবাদ প্রকাশের পথ থেকে তারা সরে দাঁড়াবে না।

প্রশ্নটি তাই শুধু দৈনিক সময়ের কণ্ঠের নয়। প্রশ্নটি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার।

ক্ষমতায় যে-ই থাকুক, সংবাদপত্র যদি শুধু ক্ষমতার প্রশংসা করে, তাহলে জনগণের পক্ষে প্রশ্ন করবে কে?

আর যে সংবাদপত্র ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে, তার বিরুদ্ধে মামলা হলে—সেই মামলার বৈধতা, পুলিশের ভূমিকা এবং বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকারও জনগণের রয়েছে।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের দীর্ঘ পথচলা তাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি সংবাদপত্র কতটা চাপ সহ্য করে টিকে থাকতে পারে—তারও একটি অধ্যায়।

অনুসন্ধান চলমান।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media