Dhaka ১১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনমন্ত্রীর বৈঠকের পর এবার প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ঘুম! আলোচনায় বাগেরহাটের সিভিল সার্জন সভায় বারবার মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগ; দায়িত্বশীল কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৪৯ ০০০.০০.বার দেখেছেন

বাগেরহাট: সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সভায় বারবার মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর এবার বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলামের অনুষ্ঠানে ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. এ. এস. মো. মাহবুবুল আলম।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় বারবার মোবাইল ফোনে কথা বলার ঘটনায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তাঁর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে সভাকক্ষ থেকে চলে যেতে বলা হয়। ঘটনাটি সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এরপর গত ১১ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে রামপালে ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জনের ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগ সামনে আসে। একই ধরনের ঘটনা নিয়ে পরপর আলোচনা তৈরি হওয়ায় জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার পেশাগত মনোযোগ ও সভায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারি অনুষ্ঠানে এমন আচরণ কতটা গ্রহণযোগ্য?

একজন জেলা সিভিল সার্জন জেলার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা তদারকি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পদটি জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে সরকারি সভা ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁর আচরণ, মনোযোগ এবং দায়িত্বশীলতা স্বাভাবিকভাবেই জনসাধারণের প্রত্যাশার বিষয়।

সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগ সত্য হলে, এর কারণ কী এবং দায়িত্ব পালনে কোনো প্রভাব পড়ছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তবে কোনো কর্মকর্তার শারীরিক অসুস্থতা, অতিরিক্ত কর্মচাপ কিংবা অন্য কোনো বাস্তব কারণ আছে কি না, তা যাচাই না করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমীচীন নয়।

চিকিৎসক সমাজের মর্যাদা রক্ষায় জবাবদিহি জরুরি

চিকিৎসক সমাজ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ঘিরে বারবার এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও হতাশা তৈরি করতে পারে। তবে কোনো একজন কর্মকর্তার আচরণ দিয়ে পুরো চিকিৎসক সমাজকে মূল্যায়ন করাও যুক্তিসংগত নয়।

এ অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি উঠেছে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে সিভিল সার্জনের বক্তব্যও জনসমক্ষে আসা জরুরি, যাতে বিষয়টির প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হয়।

জনস্বার্থে কয়েকটি প্রশ্ন

বাগেরহাটের স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বে থাকা একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরপর এমন অভিযোগ কেন উঠছে? সরকারি সভায় মনোযোগ ও পেশাগত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কী পদক্ষেপ রয়েছে? অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি?

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি। কারণ সরকারি পদ কোনো ব্যক্তিগত সুবিধার বিষয় নয়; এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে ডা. এ. এস. মো. মাহবুবুল আলম ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media