Dhaka ১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিআরটিএতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ মোটরযান পরিদর্শক মোঃ সেলিম হাসান ও সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফারুক আলমকে ঘিরে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি

প্রতিবেদক: নয়ন আহমেদ বকুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি দৈনিক সময়ের কণ্ঠ আমাদের কাগজ মানুষের কথা বলে
  • আপডেট টাইম : ০৫:২৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৪৭ ০০০.০০.বার দেখেছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কেলের সেবাব্যবস্থা নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, দালালনির্ভরতা ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অভিযোগ আলোচনায় আসায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি এবং জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা।

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের ফিটনেস সনদ ও রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কেউ কেউ নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সেবাপ্রার্থীদের বক্তব্য ও দাপ্তরিক তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

আলোচনায় সজীব ভাইয়া, সজিব ও ফারুক

স্থানীয়ভাবে সজীব ভাইয়া, সজিব ও ফারুক নামের ব্যক্তিদের ঘিরে অভিযোগের কথা উঠে এসেছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন। তবে তাঁদের প্রত্যেকের পূর্ণ পরিচয়, বিআরটিএর সঙ্গে সম্পর্ক এবং অভিযোগে তাঁদের নির্দিষ্ট ভূমিকা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে অপরাধী বলা যায় না। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা জরুরি।

মোটরযান পরিদর্শক সেলিম হাসানের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন

প্রাপ্ত ছবিতে মোঃ সেলিম হাসানকে বিআরটিএ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, যানবাহন পরিদর্শন-সংক্রান্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা এবং অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা গুরুত্বপূর্ণ।

এ অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিআরটিএর সেবাব্যবস্থা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মোটরযান পরিদর্শক মোঃ সেলিম হাসানের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো যাচাইকৃত প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

মোঃ ফারুক আলমের পদবি ও দায়িত্ব

প্রদত্ত ছবিতে মোঃ ফারুক আলমের পদবি সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। নামের পাশে “অঃদাঃ” লেখা দেখা গেলেও এর অর্থ ও বর্তমান দাপ্তরিক অবস্থান সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তাঁর বর্তমান কর্মস্থল, দায়িত্বের সময়কাল এবং আলোচিত অভিযোগগুলোর সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাই না করে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা যাবে না।

বিআরটিএ সদর দপ্তরের তদন্ত দাবি

সচেতন নাগরিকদের দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিআরটিএ সার্কেলে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং দালালনির্ভরতার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।

প্রয়োজনে বিআরটিএ সদর দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগগুলো যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। একই সঙ্গে সরকারি ফির তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

অনুসন্ধান চলমান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিআরটিএ সার্কেলের সেবাব্যবস্থা, উত্থাপিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তথ্য যাচাই অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media