শিবিরকর্মী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এখন মহেশপুরের ওসি চাকরিচ্যুতি নয়, বদলি হয়ে থানার দায়িত্বে—পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট টাইম : ১২:০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ৬৫ ০০০.০০.বার দেখেছেন

ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান আলমের বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা শামীম হোসেন হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬ সালে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে তাঁর নাম পাঁচ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মহেশপুর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শামীম হোসেনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রায় ২০ দিন পর যশোরের লাউখালী এলাকার একটি শ্মশানঘাট থেকে তাঁর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন।
বদলি ও পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইমরান আলম ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কালীগঞ্জ থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর তিনি বরগুনায় কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে বদলি হয়ে ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর মহেশপুর থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন।
এ অবস্থায় হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে নাম থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে থানার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ প্রশাসন কী ধরনের প্রশাসনিক মূল্যায়ন করেছে, তা জনসমক্ষে পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উদ্বিগ্ন ব্যক্তিরা।
ওসির বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি
প্রকাশিত সংবাদে ওসি ইমরান আলমের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, তিনি মামলার পাঁচ নম্বর আসামি হিসেবে নিজের নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, বাদী হলফনামার মাধ্যমে কয়েকজনের নাম প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন। তবে মামলার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু হলফনামার ভিত্তিতে আসামির নাম প্রত্যাহারের আইনগত ভিত্তি নেই; তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমান ওসির বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা থাকার বিষয়টি তাঁর তাৎক্ষণিকভাবে জানা ছিল না; খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি
একটি হত্যা মামলায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তার নাম থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করাও সমীচীন নয়। তাই মামলার বর্তমান অবস্থা, তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য প্রশাসনিক বিধান অনুযায়ী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা জরুরি।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের বক্তব্য: শামীম হোসেন হত্যা মামলার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনগত অধিকারও অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহির বিকল্প নেই।











