সরাইল থানার ওসিকে ঘিরে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মুন্সির বিস্ফোরক মন্তব্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচনা-সমালোচনা ওসির অতীত ভূমিকা ও দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রশ্ন, অভিযোগ তদন্তের দাবি
- আপডেট টাইম : ০৪:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১০৯ ০০০.০০.বার দেখেছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)–কে ঘিরে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান মুন্সির বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ৫ আগস্টের আগে ওই কর্মকর্তার ভূমিকা, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ এবং বর্তমানে পুলিশে দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির এই নেতা।
বিজয়নগর উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান মুন্সি এক বক্তব্যে দাবি করেন, বর্তমান ইস্যুতে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও অতীতের অভিযোগগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে এবং সেগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অতীত কর্মকাণ্ডের তদন্তের দাবিও উঠে এসেছে।
৫ আগস্টের আগে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আসাদুজ্জামান মুন্সির অভিযোগ, ৫ আগস্টের আগে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অন্যায় ও দমনমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওসি জড়িত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও পরিচয় উপস্থাপনে পরিবর্তন এনেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট মামলা, সরকারি নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য কিংবা অন্য কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
অতীতের মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে গুম, খুন এবং রাজনৈতিক মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে। তবে কোন ঘটনা, কোন মামলা বা কোন সময়ের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, তা নির্দিষ্টভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে মামলা নম্বর, এজাহার, আদালতের নথি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতে পারে; অন্যদিকে, তদন্ত ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়।
সংসদ সদস্যের কক্ষে বিতর্কের প্রসঙ্গ
সম্প্রতি সংসদ সদস্যের কক্ষে ফারহানা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওসির তর্কে জড়ানোর প্রসঙ্গেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট তারিখ, উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীতে কর্মরত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হয়রানি, বেআইনি গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা অন্য কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়, পদোন্নতি কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের প্রমাণের, নথিপত্র ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ওসির বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তথ্য, অতীতের দায়িত্বকালীন কর্মকাণ্ডের নথি এবং বিএনপি নেতার উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।









