হুইলচেয়ার বিতরণে মানবিক উদ্যোগ, তবে প্রশাসনের ভেতরের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের আশপাশে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
- আপডেট টাইম : ০২:০৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৭৩ ০০০.০০.বার দেখেছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবার মানোন্নয়নে জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের প্রতিবন্ধী কর্নারের জন্য একটি হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মান্যবর জেলা প্রশাসক জনাব মো. আবু সাঈদের কাছ থেকে হুইলচেয়ারটি গ্রহণ করেন জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী লাইব্রেরিয়ান জনাব টিংকু দে। এ সময় জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং জেলা প্রতিবন্ধী কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই উদ্যোগকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাঠাগার ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি ও সেবাপ্রাপ্তি সহজ করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে জনসেবামূলক এমন উদ্যোগের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশাসনের ভেতরের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা এবং গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলো যদি তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে সমর্থিত হয়, তাহলে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়।
এ অবস্থায় জনমনে প্রশ্ন উঠছে—জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের তদন্ত করছে? অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পরও যদি কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না দেখা যায়, তাহলে তার কারণ কী?
জেলা প্রশাসকের অধীনে কর্মরত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দোষী বলা যায় না। তবে অভিযোগের গুরুত্ব ও প্রমাণ বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি বা বদলির বিষয়টি বিধি অনুযায়ী বিবেচনা করা যেতে পারে।
জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে জনস্বার্থের প্রশ্ন
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জেলার সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর প্রশাসনের অধীন কোনো দপ্তর বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেগুলোর যথাযথ অনুসন্ধান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রশাসনিক স্বচ্ছতার স্বার্থে জরুরি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বক্তব্য নেওয়া, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বক্তব্যও জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।
জনগণের প্রত্যাশা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—জেলা প্রশাসনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যেন প্রভাবমুক্তভাবে তদন্ত করা হয়।
জনসেবার উদ্যোগ প্রশংসনীয়, কিন্তু প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হোক।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে বিষয়টি অনুসন্ধানের আহ্বান জানানো হচ্ছে।







