সোনারগাঁয়ে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন: অর্থের বিনিময়ে মামলা ‘হালকা’ করার অভিযোগ
- আপডেট টাইম : ০১:১১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১২৭ ০০০.০০.বার দেখেছেন

সোনারগাঁয়ে অটোরিকশা থামানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চারজনকে আটকের পর মামলার ধরন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আটকের সময় দেশি পিস্তল উদ্ধারের পরও অস্ত্র মামলা না দিয়ে রোড ব্লক, ছিনতাইসহ অপেক্ষাকৃত ভিন্ন মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও অভিযোগ রয়েছে যে, অর্থের বিনিময়ে পুরো ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ওসির সঙ্গে নিজস্ব প্রতিবেদক ফোনে কথা বলেন। মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা বাইরে গিয়ে কী করেছে বা কী পেয়েছে, তা তিনি ঘটনাস্থলে না থাকায় জানেন না। থানায় আনার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরাই বাদী হয়ে মামলা করেন।
ওসির বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে—পুলিশ সদস্যরা বাইরে ডিউটিরত অবস্থায় কী উদ্ধার করলেন, কীভাবে জব্দ করলেন এবং থানায় এনে কোন ধারায় মামলা হলো—এসব বিষয় কি থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বের বাইরে?
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে এসআই সেলিম ও এএসআই নাসিরসহ পুলিশ সদস্যরা অভিযানে ছিলেন। পরে দেশি পিস্তল উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলেও সেটি প্রকাশ্যে না দেখিয়ে বা অস্ত্র মামলায় না নিয়ে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসআই সেলিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নিজস্ব প্রতিবেদক এসআই সেলিমকে একাধিকবার ফোন করেন। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে—এ বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকছে। পরবর্তীতে এসআই সেলিমের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
দায়িত্ব কার?
প্রশ্ন উঠছে, একজন পুলিশ সদস্য ডিউটিরত অবস্থায় বাইরে গিয়ে কোনো অভিযান চালালে সেখানে কী উদ্ধার হলো, কীভাবে জব্দ করা হলো এবং পরে থানায় এনে কীভাবে মামলা করা হলো—এসব বিষয় থানার ওসি ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বের আওতায় পড়ে কি না।
আর যদি সত্যিই দেশি পিস্তল উদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে অস্ত্র মামলা না দিয়ে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণ কী?
অর্থের বিনিময়ে মামলার ধরন পরিবর্তন বা বিষয়টি আড়াল করার অভিযোগের পেছনে কোনো সত্যতা আছে কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তেই পরিষ্কার হতে পারে।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তবে দেশি পিস্তল উদ্ধারের দাবি, মামলার ধরন এবং পুলিশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
অনুসন্ধান চলমান। এসআই সেলিমের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা হবে।
















