Dhaka ০২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিআরটিসি কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭৯ ০০০.০০.বার দেখেছেন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চলতি দায়িত্বে থাকা উপমহাব্যবদ্যবস্যাপক (ডিজিএম) মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি-বাণিজ্য, কেনাকাটায় অনিয়ম, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করেছেন বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোর চালক মো. রফিকুল ইসলাম।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ কর্মজীবনে একটি প্রভাবশালী কর্মকর্তা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিভিন্ন ডিপো ও ওয়ার্কশপে অনিয়মের সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন বর্তমানে কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় দায়িত্বরত এই ডিজিএম।

গাজীপুরের ৮ কোটি টাকার প্রকল্প ও লোপাট: ২০০৯ সালে ভলভো বাস মেরামতের জন্য সরকারের অনুমোদিত ৮ কোটি টাকার প্রকল্প ফিয়াট-টিসি বাসে রূপান্তর এবং পরবর্তী সময়ে ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে গাজীপুর, জোয়ার সাহারা, মতিঝিল, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন ডিপোর দায়িত্বে থাকাকালে প্রায় ২০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

কেনাকাটায় অতিরিক্ত মূল্য ও ভুয়া ভাউচার: ঢাকা ট্রাক ডিপোতে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যন্ত্রাংশ ও টায়ার কেনায় চরম মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ তুলে ধরা হয়। যেমন—২২ মার্চের ৮,৫০০ টাকার ক্র্যাঙ্ক প্লেট জুন ২০২৩-এ টেন্ডারের নামে ১৬,৩৫০ টাকায় কেনা হয়। একইভাবে ২৭,০০০ টাকার টায়ার দুই বছরের ব্যবধানে ৩৮,১৫০ টাকায় ক্রয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।

জ্বালানি ও আনলোডিং খাতে আত্মসাৎ: রক্ষণাবেক্ষণ ও ট্রাফিক বিভাগের লগবুকে অসংগতি রেখে জ্বালানি খাতে কয়েক কোটি টাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে আসা ট্রাকের আনলোডিং ও টোল-ফেরি খাতে কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব ছাড়াই প্রতি মাসে ৪০-৫০ লাখ টাকা তুলে আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে।

প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও পদায়ন: বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ের ১০-১২ জন কর্মকর্তার একটি বলয় ব্যবহার করে ডিপো প্রধানদের নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে প্রভাব খাটাতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারী রফিকুল ইসলাম ঢাকা ট্রাক ডিপোর আয়ের তুলনামূলক হিসাব তুলে ধরে জানান, আশরাফুল আলমের সময়ে (২০২১-২০২৪) ২৮৩.৮৫ কোটি টাকা রাজস্বের বিপরীতে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৮৭.৪০ শতাংশ, যেখানে প্রতি মাসে গড় নিট লাভ ছিল ৭৪.৫০ লাখ টাকা। তবে তাঁর বিদায়ের পর পরবর্তী প্রধানদের সময়ে মাসিক গড় নিট লাভ বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৭৭.৪১ লাখ ও ৮৯.২২ লাখ টাকায় উন্নীত হয়, যা পূর্বের প্রশাসনিক তছরুপের ইঙ্গিত দেয়।

বিআরটিসি চেয়ারম্যান: বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল লতিফ মোল্লা জানিয়েছেন, যেকোনো অভিযোগকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানে কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

বিশেষজ্ঞ প্রতিক্রিয়া: টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মাহমুদুল হাসান উল্লেখ করেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. শফিকুল ইসলাম বিআরটিসির রাজস্ব ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

অভিযোগকারী রফিকুল ইসলাম দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে দুদকের কাছে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সরবরাহ ও সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

১. এই সংবাদটির একটি সংক্ষেপিত (Short Snippet) বা প্রেস রিলিজ সংস্করণ তৈরি করা। ২. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফেসবুক পেজের জন্য কোনো আকর্ষণীয় ক্যাপশন ও পোস্ট তৈরি করা।

জাতীয় নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media